আজ (শুক্রবার, ৩১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তারা রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের কথা শোনেন।
এ দিন বেলা ১২ টার দিকে সার্জিও গরের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের মার্কিন প্রতিনিধিদলটি কক্সবাজার বিমানবন্দরের পৌঁছান। এরপর দলটির সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে রওনা দেন।
পরে দুপুর ২টার দিকে প্রতিনিধিদলটি উখিয়ার ৮-ডব্লিউ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান। ক্যাম্পটির ওয়াচ টাওয়ার থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। প্রায় ২০ মিনিটের মত সেখানে পর্যবেক্ষণ শেষে ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিডিআরসিএস পরিচালিত হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় হাসপাতালের রোগী, নার্স ও চিকিৎসকের সাথে কথা বলেন।
এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদলটি উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউএনএইচসিআর পরিচালিত রেজিস্টেশন সেন্টার পরিদর্শনে যান। সেখানে দলটির সদস্যরা কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন এবং সংস্থাটির সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করেন।
পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে উখিয়ার ৪-এক্সটেনশন নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মার্কিন প্রতিনিধিদলটির সদস্যরা জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী (ডব্লিউএফপি) পরিচালিত খাদ্য বিতরণকেন্দ্রে যান। সেখানে তারা খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন এবং সংস্থাটির সংশ্লিষ্টদের সাথেও আলাপ করেন।
আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সার্বিক পরিদর্শন কার্যক্রম শেষে বিকেল পৌণে ৫টায় উখিয়া উপজেলা সদরের নর্থ এন্ড ক্যাফে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে সার্জিও গর ও বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠক শেষে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ দাতা দেশ হিসেবে সহায়তা করে আসছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অনুদানগুলো কীভাবে রোহিঙ্গাদের সহায়তা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে তা সরেজমিন দেখতে মার্কিন প্রতিনিধিদলের এই সফর। ক্যাম্পে পরিদর্শন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।’
এদিকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফরকালে, রোহিঙ্গারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের তত্ত্বাবধানে মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন। এসময় তারা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে প্লেকার্ড প্রদর্শন করে নানা দাবি জানান।
রোহিঙ্গারা বলছেন, নিরাপত্তার সাথে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা পেলে তারা স্বদেশে ফিরে যাবেন।
পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় প্রতিনিধিদলটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
উল্লেখ্য, তিন দিনের সরকারি সফরে গতকাল (বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই) ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গর। সফরের শেষ দিনে শনিবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে সার্জিও গরের বাংলাদেশ সফর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।—বাসস




