বাজেটে কী কী সুবিধা পেলেন সাধারণ নাগরিক, কোন কোন খাতে কমলো খরচ?

বাজেট ২০০২৬-২৭
বাজেট ২০০২৬-২৭ | ছবি: এখন টিভি
0

শুরু হলো নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছর (New fiscal year 2026-27 in Bangladesh)। সরকারের সব ধরণের আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন থেকে নতুন বাজেটের আলোকেই পরিচালিত হবে। প্রতিবারের মতো এবারও জুন মাসে বাজেট ঘোষণার পর করদাতাসহ সাধারণ নাগরিকদের মনে প্রশ্ন ছিল এই বাজেট জীবনযাত্রার খরচ কতটা বাড়াবে কিংবা কমাবে। জুনের শেষ সপ্তাহে জাতীয় সংসদে বাজেট পাশের আগে কিছু প্রস্তাব সংশোধন ও প্রত্যাহার করা হয়েছে (Budget modification and withdrawal status)। যেমন, ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন (TIN registration for bank account) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। পাশ হওয়া চূড়ান্ত বাজেট থেকে আপনি কী কী সুবিধা পেলেন এবং আপনার পকেটে এর কী প্রভাব পড়বে, তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

৪ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমা: মধ্যবিত্তের বড় স্বস্তি (Income tax free limit 2026-27)

এবারের বাজেটে সাধারণ চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত করদাতাদের জন্য সবচেয়ে বড় সুখবর হলো করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি। অর্থমন্ত্রীর প্রাথমিক প্রস্তাব পৌনে চার লাখ টাকা হলেও, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুরোধে গত সোমবার অর্থবিল পাশের সময় তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।

প্রভাব (Impact): ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত আপনার বার্ষিক আয় যদি ৪ লাখ টাকার কম হয়, তবে আপনাকে কোনো আয়কর দিতে হবে না (Zero income tax limit)। উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে এটি সীমিত আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ অনেকটাই কমাবে। এছাড়া, করমুক্ত আয়সীমার পরের প্রথম ১ লাখ টাকার ওপর যে ৫% কর বসত, তা এবার পুরোপুরি তুলে দেয়া হয়েছে। তবে ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা বহাল থাকছে।

আরও পডুন:

সারা বছর অনলাইনে রিটার্ন জমায় হয়রানি মুক্তি (Online income tax return submission)

এখন থেকে করদাতারা বছরের যেকোনো সময় তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। নির্দিষ্ট সময়ের শেষ মুহূর্তে আর কোনো তাড়াহুড়ো থাকবে না। তবে সময় অনুযায়ী করছাড় ও জরিমানার নতুন নিয়ম করা হয়েছে:

প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর): রিটার্ন দিলে পরিশোধযোগ্য করের ৫% বা ২৫,০০০ টাকা (যা কম) ছাড় পাবেন (Tax rebate for early income tax return)।

দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর): কোনো প্রণোদনা বা জরিমানা ছাড়াই স্বাভাবিক কর দিতে হবে।

তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিক (জানুয়ারি-জুন): দেরিতে রিটার্ন জমার জন্য নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত জরিমানা গুণতে হবে।

প্রভাব (Impact): নির্ধারিত ৫টি বিশেষ শ্রেণী ছাড়া বাকি সব করদাতাকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে ই-রিটার্ন (Online e-return software) দিতে হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে হিসাব হওয়ায় কর কর্মকর্তাদের হয়রানি বা ঘুষের সুযোগ কমবে।

আরও পড়ুন:

সঞ্চয়পত্রের অগ্রিম কর ফেরত ও নতুন জটিলতা (Tax deduction on savings certificate)

আগে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কেটে নেয়া ১০% অগ্রিম করকে চূড়ান্ত কর দায় ধরা হতো। নতুন বাজেটে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্রের এই উৎসে কর চূড়ান্ত নয়; বছর শেষে রিটার্ন জমার সময় তা সমন্বয় করা যাবে এবং প্রযোজ্য করের চেয়ে বেশি টাকা কাটা হলে তা ফেরত পাওয়া যাবে (Tax refund for savings certificate investment)।

প্রভাব (Impact): ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (TIN certificate) বাধ্যতামূলক। অনেক মধ্যবিত্ত বা গৃহিণীর করযোগ্য আয় না থাকলেও সঞ্চয়পত্র কেনার কারণে কর কেটে রাখা হতো। এখন তারা বছর শেষে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করে ১২০ দিনের মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সেই কেটে নেয়া টাকা ফেরত (Income tax refund process) পাবেন। তবে করযোগ্য আয় না থাকলেও টাকা ফেরত পেতে এখন বাধ্যতামূলকভাবে রিটার্ন জমা দিতে হবে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক মাফ (Excise duty on bank account balance)

ক্ষুদ্র ও মাঝারি আমানতকারীদের জন্য সরকার আবগারি শুল্কের সীমা বাড়িয়েছে। আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ টাকা থাকলে আবগারি শুল্ক কাটা হতো, এখন সেই সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।

প্রভাব (Impact): আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্থিতি (২০২৬ সালের মধ্যে যেকোনো সময়) যদি ৪ লাখ টাকার নিচে থাকে, তবে ব্যাংক কোনো আবগারি শুল্ক (Excise duty waiver limit) কাটবে না। এছাড়া একটি ঋণ হিসাবের বিপরীতে বছরে কেবল একবারই শুল্ক কাটা যাবে, যা আমানতকারীদের বাড়তি খরচ বাঁচাবে।

আরও পড়ুন:

বড় করদাতাদের বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বা সুবিধা কমলো (Reduction in investment tax rebate rules)

এবারের বাজেটে বড় করদাতাদের বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বা ট্যাক্স রিবের সুবিধা (Investment tax rebate benefit) বেশ কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, করদাতারা তাদের মোট বিনিয়োগের ওপর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত কর রেয়াতের সুবিধা পাবেন। এছাড়া সর্বোচ্চ কর রেয়াতের সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতদিন এই বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পাওয়ার নিয়ম ছিল তিনটি বিষয়ের মধ্যে যেটি কম (করযোগ্য আয়ের ৩ শতাংশ, মোট বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ কিংবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা)। তবে নতুন অর্থবছরের বাজেট পাশ হওয়ার পর এই সমীকরণ বদলে করা হয়েছে:

  • মোট করযোগ্য আয়ের ৩ শতাংশ,
  • মোট বিনিয়োগের ১০ শতাংশ, অথবা
  • সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ লাখ টাকা। (এই তিনটির মধ্যে যে অঙ্কটি সবচেয়ে কম হবে, করদাতা ঠিক সেই পরিমাণ টাকা রেয়াত পাবেন।)

প্রভাব (Impact): সরকারের এই নতুন নিয়মের ফলে বড় করদাতারা বিনিয়োগের বিপরীতে আগের মতো বিপুল পরিমাণ কর ছাড় পাবেন না (Impact on large taxpayers tax rebate)। একটি বাস্তব হিসাব দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে—কোনো করদাতার বার্ষিক করযোগ্য আয় যদি ৩ কোটি টাকা হয় এবং তিনি যদি ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে নতুন নিয়মে তার কর রেয়াতের পরিমাণ আগের চেয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকা কমে যাবে। কারণ আগের নিয়মে তিনি যেখানে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় উপভোগ করতে পারতেন, এখন সেখানে পাবেন সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:

চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ কমলো: ক্যানসার ও কিডনি রোগীদের বড় সুবিধা (Medical cost reduction and health card update)

স্বাস্থ্য খাত ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করতে বাজেটে বেশ কিছু কর ও ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে:

দুরারোগ্য ব্যাধির ভাতা: ক্যানসারসহ ৬টি মারাত্মক রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন সরকারি চিকিৎসা সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে (Government financial aid for cancer patients)।

হৃদরোগের চিকিৎসা: হার্টের রিং আমদানিতে জোগানদার পর্যায়ের ১০% শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে প্রতিটি হার্টের রিংয়ের দাম প্রায় ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে (Heart ring price in Bangladesh)।

কিডনি ডায়ালাইসিস: ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫% ভ্যাট ও ৫% অগ্রিম কর সম্পূর্ণ তুলে নেয়া হয়েছে। এতে প্রতি ডায়ালাইসিসে রোগীর খরচ প্রায় ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমবে (Kidney dialysis cost reduction)।

অন্যান্য সুবিধা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ১৫টি পণ্যের অগ্রিম কর কমানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিকের জন্য পূর্ববর্তী প্রেসক্রিপশন ও মেডিকেল হিস্ট্রি সম্বলিত ডিজিটাল 'হেলথ কার্ড' (National health card system) চালু এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষাঋণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

৪১ ধরণের সরকারি-বেসরকারি সেবায় রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক (Mandatory proof of submission of tax return)

আগে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বা পিএসআর (Proof of Submission of Return - PSR) ছাড়া ৩৯ ধরনের সেবা পাওয়া যেত। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেটে এই তালিকা আরও বড় করে ৪১টি সেবায় পিএসআর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এবারের বাজেটে প্রাথমিকভাবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় জমি-ফ্ল্যাট বণ্টন এবং নামজারিতেও রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র লাগবে এমন প্রস্তাব করা হয়েছিল; তবে চূড়ান্ত অর্থবিল পাশের সময় সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে সেই প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বাজেটে নতুন যে নিয়মগুলো যুক্ত করা হয়েছে এবং যে ৪১টি সেবা পেতে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দেয়া বাধ্যতামূলক (Mandatory list for tax return certificate/PSR updates) করা হয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেয়া হলো:

নির্বাচন ও কোম্পানির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম (New rules for election and corporate sector)

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: এখন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে (Union Parishad Election) চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দেয়ার প্রমাণপত্র (PSR) দেখাতে হবে। এটি ছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যাবে না। এতদিন শুধু পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে এই প্রমাণপত্র দেখাতে হতো।

কোম্পানির পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডার: এখন থেকে শুধুমাত্র নিবাসী করদাতা (Resident taxpayer) কোম্পানির পরিচালক বা স্পনসর শেয়ারহোল্ডার হতে হলে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। তবে অনিবাসী (Non-resident) পরিচালক ও স্পনসর শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এটি লাগবে না।

রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র (PSR) ছাড়া যেসব প্রধান সেবা মিলবে না (List of major services requiring PSR)

সরকারি ও বেসরকারি ৪১ ধরনের সেবা সচল রাখতে বা নতুন সুবিধা নিতে বার্ষিক আয়কর বিবরণীর রসিদ প্রদর্শন করতে হবে, যার মধ্যে অন্যতম সেবাগুলো হলো:

ব্যাংক ও আর্থিক সুবিধা: ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ গ্রহণে (Taking bank loan above 20 lakhs) এবং ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কেনায় (Buying savings certificates above 10 lakhs)।

লাইসেন্স ও ব্যবসা: সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন করতে (Trade license renewal)।

পেশাজীবীদের মেম্বারশিপ: চিকিৎসক, দন্তচিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA), কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CMA), চার্টার্ড সেক্রেটারি, কর আইনজীবী, একচুয়ারি, প্রকৌশলী, স্থপতি ও সার্ভেয়ার হিসেবে কোনো স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থার সদস্যপদ গ্রহণ বা নবায়ন করতে।

ইউটিলিটি সংযোগ: যেকোনো এলাকায় গ্যাসের বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগপ্রাপ্তি ও তা বহাল রাখতে; সিটি করপোরেশন এলাকায় আবাসিক গ্যাস-সংযোগ প্রাপ্তিতে এবং সিটি করপোরেশন বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় নতুন বিদ্যুৎ-সংযোগ পেতে (New electricity and gas connection rules)।

প্রাতিষ্ঠানিক লাইসেন্স: হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মোটেল, কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নে।

কমিউনিটি সেন্টার ও হল ভাড়া: সামাজিক অনুষ্ঠান, করপোরেট প্রোগ্রাম, ওয়ার্কশপ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, প্রশিক্ষণসহ সমজাতীয় যেকোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন হল বা সমজাতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান হতে ভাড়া বা অন্য যেকোনো সেবা গ্রহণকালে।

আরও পড়ুন:

একনজরে নতুন বাজেটে নাগরিক সুবিধা ও খরচ কমার খাত (Citizen Benefits and Price Reductions in Budget at a Glance)

খাত বা বিষয়
(Sector / Subject)
বাজেটের নতুন সুবিধা ও পরিবর্তন
(New Budget Benefits & Changes)
নাগরিক জীবনে এর প্রভাব
(Impact on Citizen Life)
সাধারণ আয়কর
(Income Tax)
* করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে **৪ লাখ টাকা** করা হয়েছে।
* পরবর্তী ১ লাখ টাকার ওপর পূর্বের ৫% করহার পুরোপুরি বিলুপ্ত।
সীমিত ও মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের করের চাপ কমবে; স্বস্তি ফিরবে।
ব্যাংক আমানত
(Bank Account)
* ব্যাংক হিসাবে **৪ লাখ টাকা** পর্যন্ত আবগারি শুল্ক সম্পূর্ণ মাফ।
* নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলায় টিআইএন (TIN) বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব বাতিল।
ক্ষুদ্র আমানতকারীদের টাকা বাঁচবে এবং সাধারণের ব্যাংক হিসাব খোলা সহজ হবে।
চিকিৎসা ও ওষুধ
(Medical & Healthcare)
* হার্টের রিংয়ে ১০% শুল্ক প্রত্যাহার (দাম কমবে প্রায় ২০,০০০ টাকা)।
* ডায়ালাইসিস ফিল্টারে ১৫% ভ্যাট ও ৫% অগ্রিম কর প্রত্যাহার (খরচ কমবে ৮०० টাকা)।
* ক্যানসারসহ ৬টি দুরারোগ্য ব্যাধির এককালীন ভাতা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে **১ লাখ টাকা**।
হৃদরোগ ও কিডনি রোগীদের বড় ধরণের চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পাবে।
সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগ
(Savings Certificate)
* সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কেটে রাখা অগ্রিম কর বছর শেষে সমন্বয়যোগ্য।
* অতিরিক্ত কর কেটে রাখা হলে ১২০ দিনের মধ্যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত।
ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও গৃহিণীরা কেটে নেওয়া করের টাকা রিফান্ড পাবেন।
শিক্ষা ও প্রযুক্তি
(Education & Tech)
* মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষাঋণ সুবিধা চালু।
* প্রতিটি নাগরিকের জন্য পূর্ববর্তী প্রেসক্রিপশন ও তথ্যের ডিজিটাল 'হেলথ কার্ড'।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের অর্থায়ন সহজ হবে এবং চিকিৎসাসেবা আধুনিক হবে।
জমি-ফ্ল্যাট ও রিটার্ন
(Property & PSR)
* সিটি কর্পোরেশন ও পৌর এলাকায় জমি-ফ্ল্যাট বণ্টন ও নামজারিতে রিটার্ন জমার (PSR) বাধ্যবাধকতার প্রস্তাব **প্রত্যাহার**। জমি ও ফ্ল্যাট কেনা-বেচা এবং নামজারিতে বড় ধরণের জটিলতা থেকে মুক্তি।

এসআর