
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার যে হার নির্ধারণ করলো সরকার
চলতি বছরের শেষ ছয় মাস অর্থাৎ, জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মেয়াদের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার (Savings Certificate Interest Rate) নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ছয় মাস সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আগের হারেই তাদের লভ্যাংশ বা মুনাফা তুলতে পারবেন, যেখানে স্কিমের ধরন অনুযায়ী মুনাফার সর্বোচ্চ হার হবে ১১.৮২ শতাংশ থেকে ১১.৯৮ শতাংশ পর্যন্ত (Savings Certificate Interest Rate Bangladesh)।

বাজেটে কী কী সুবিধা পেলেন সাধারণ নাগরিক, কোন কোন খাতে কমলো খরচ?
শুরু হলো নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছর (New fiscal year 2026-27 in Bangladesh)। সরকারের সব ধরণের আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন থেকে নতুন বাজেটের আলোকেই পরিচালিত হবে। প্রতিবারের মতো এবারও জুন মাসে বাজেট ঘোষণার পর করদাতাসহ সাধারণ নাগরিকদের মনে প্রশ্ন ছিল এই বাজেট জীবনযাত্রার খরচ কতটা বাড়াবে কিংবা কমাবে। জুনের শেষ সপ্তাহে জাতীয় সংসদে বাজেট পাশের আগে কিছু প্রস্তাব সংশোধন ও প্রত্যাহার করা হয়েছে (Budget modification and withdrawal status)। যেমন, ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন (TIN registration for bank account) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। পাশ হওয়া চূড়ান্ত বাজেট থেকে আপনি কী কী সুবিধা পেলেন এবং আপনার পকেটে এর কী প্রভাব পড়বে, তা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কর দ্বিগুণ, চাপে মধ্যবিত্ত ও পেনশনভোগী; জানুন নতুন হিসাব
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর করের হার একলাফে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারী লাখো মধ্যবিত্ত পরিবার, অর্ধকোটির বেশি অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং পেনশনভোগীদের হাতে আগের তুলনায় অনেক কম অর্থ পৌঁছাবে (Tax Doubled on Savings Certificate Profits, Middle Class and Pensioners Under Pressure: Know the New Monthly Income Calculation)।

সবচেয়ে বেশি মুনাফা কোন সঞ্চয়পত্রে? কিনবেন কীভাবে
নিরাপদ বিনিয়োগ এবং সর্বোচ্চ মুনাফার (High Interest Rate) খোঁজে থাকা অবসরভোগীদের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে লাভজনক মাধ্যম হলো পেনশনার সঞ্চয়পত্র (Pensioner Savings Certificate)। সরকার ২০০৪ সালে এই স্কিমটি চালু করে, যা বর্তমানে এর উচ্চ মুনাফার কারণে বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মূলত অবসরভোগীরা যাতে বেশি মুনাফা পান, সে জন্য সরকার এই হার বেশি রেখেছে।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আরও কমলো; বিনিয়োগকারীদের জন্য দুঃসংবাদ
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঋণের বোঝা কমাতে ছয় মাসের ব্যবধানে আবারও সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার (Interest rate of savings certificate) কমিয়েছে সরকার। আজ (বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি) থেকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (Internal Resources Division - IRD) এই নতুন হার কার্যকর করেছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর মুনাফার হার পর্যালোচনা (Review of profit rates) করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা মারা গেলে টাকা কে পাবেন, কী কাগজপত্র লাগে?
দেশের মধ্যবিত্ত ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সঞ্চয়পত্র (Sanchayapatra) হলো অন্যতম নিরাপদ এবং উচ্চ মুনাফা (High Profit) প্রদানকারী সঞ্চয় মাধ্যম। এই স্কিমগুলোতে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও, বিনিয়োগকারীর মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সঞ্চয়পত্রের টাকা ও অর্জিত মুনাফা (Deceased Sanchayapatra Principal and Profit) কে পাবেন——এই প্রশ্ন প্রায়ই উঠে আসে।

তলানিতে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি, এক বছরে কমেছে প্রায় ৮৮%
সঞ্চয়পত্র বহু বছর ধরে মধ্যবিত্তের আস্থার বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি ছিল ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের আগস্টে নেমে এসেছে মাত্র ২৮৯ কোটিতে, কমেছে প্রায় ৮৮ শতাংশ। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি, আয় হ্রাস ও কর্মসংস্থান সংকটে মানুষ সঞ্চয় ভেঙে চলতি খরচ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, ব্যাংকে টাকা রাখা ঝুঁকি মনে করায় সঞ্চয়পত্র কিনছেন অনেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, সরকার সঞ্চয়ের পরিবর্তে বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সুদের নীতি অর্থনীতিকে লিকুইডিটি ট্র্যাপে ফেলতে পারে।

সার্ভার সমস্যায় বন্ধ সঞ্চয়পত্রের ক্রয়-বিক্রয়সহ সকল লেনদেন
সার্ভার সমস্যার কারণে সকল প্রকার সঞ্চয়পত্রের ক্রয়-বিক্রয়সহ সব ধরনের লেনদেন বন্ধ রয়েছে। এতে গত কয়েকদিন ধরে গ্রাহককে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক থেকে লেনদেন না করেই ফেরত যেতে হচ্ছে। আজ (সোমবার, ১৩ জানুয়ারি) ব্যাংক পাড়ায় ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।