আবগারি শুল্কের নতুন সীমা নির্ধারণ, কত টাকায় কত কর?

ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা থাকলে আবগারি শুল্ক কাটবে? নতুন নিয়ম ও শুল্কের হার
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কত টাকা থাকলে আবগারি শুল্ক কাটবে? নতুন নিয়ম ও শুল্কের হার | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও মধ্যবিত্ত ব্যাংক আমানতকারীদের জন্য সুখবর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত মেগা বাজেটে ব্যাংক হিসাবে জমা টাকার ওপর প্রযোজ্য আবগারি শুল্কের মুক্ত সীমা বা ট্যাক্স ফ্রি লিমিট বাড়ানো হয়েছে। ফলে এখন থেকে নির্দিষ্ট সীমার নিচে টাকা থাকলে ব্যাংক আর কোনো বাড়তি শুল্ক কাটবে না (Huge Relief for Bank Customers: New Excise Duty Limit Set, How Much Tax on How Much Money?)।

৩ লাখ থেকে বেড়ে নতুন সীমা ৪ লাখ টাকা (New Limit 4 Lakh Taka Increased from 3 Lakh)

এতদিন পর্যন্ত আপনার ব্যাংক হিসাবে (চলতি বা সঞ্চয়ী) বছরের যেকোনো সময় স্থিতি বা ব্যালেন্স যদি ৩ লাখ টাকা স্পর্শ করত, তাহলে বছরে একবার আবগারি শুল্ক দিতে হতো। ক্ষুদ্র আমানতকারীদের সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতে এবং স্বস্তি দিতে এবার এই আবগারি শুল্কের সর্বনিম্ন সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে (Excise duty minimum limit increased to 4 lakh Taka)।

আরও পড়ুন:

এর অর্থ হলো, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যদি কোনো একবারেও ৪ লাখ টাকার নিচে ব্যালেন্স থাকে, তবে আপনাকে কোনো আবগারি শুল্ক দিতে হবে না। তবে কোনো একসময়ে হিসাবের স্থিতি চার লাখ বা এর বেশি টাকা অতিক্রম করলেই কেবল বছরে একবার এই নির্ধারিত আবগারি শুল্ক কাটা হবে (Excise duty will be deducted once a year)।

আবগারি শুল্ক আসলে কী এবং কখন কাটা হয়? (What is Excise Duty and When is it Deducted)

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, ব্যাংকে টাকা রাখলে কেন কর দিতে হয়? সহজ ভাষায়, আবগারি শুল্ক হলো একধরনের পরোক্ষ কর (Excise duty is a type of indirect tax), যা সরকার নির্দিষ্ট কিছু পণ্য, সেবা বা আর্থিক লেনদেনের ওপর ধার্য করে থাকে। যেমন—ব্যাংকে টাকা জমানো, মুঠোফোনে কথা বলা কিংবা তামাকজাত পণ্য কেনা ইত্যাদি। এই শুল্ক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয় বা মুনাফার ওপর বসে না; বরং কোনো নির্দিষ্ট সুবিধা বা আর্থিক কার্যকলাপ ব্যবহারের ওপর বসে।

ব্যাংকিং নিয়মানুযায়ী, আপনার অ্যাকাউন্টে বছরের যেকোনো সময় (১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর) সর্বোচ্চ ব্যালেন্সের ওপর ভিত্তি করে এই কর হিসাব করা হয়। সাধারণত দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে গ্রাহকের হিসাব থেকে এই টাকা কেটে রাখে (Banks deduct this money from customer accounts in December) এবং তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়। এছাড়া মনে রাখবেন, কোনো গ্রাহকের একটি লোন বা ঋণ হিসাবের বিপরীতেও বছরে শুধু একবারই আবগারি শুল্ক কাটা হবে।

আরও পডুন:

একনজরে ব্যাংক হিসাবে জমা টাকার আবগারি শুল্কের নতুন সীমা ও নিয়মাবলী

বিষয় / করের খাত (Topic / Tax Category) বাজেটের নতুন নিয়ম ও করের স্ল্যাব (New Rules & Tax Slab) সর্বশেষ অবস্থা ও পরিবর্তন (Latest Status)
শুল্কমুক্ত সর্বনিম্ন সীমা
(Tax Free Minimum Limit)
ব্যাংক হিসাবে (সঞ্চয়ী বা চলতি) বছরের যেকোনো সময় সর্বোচ্চ ৪,০০,০০০ (চার লাখ) টাকা পর্যন্ত স্থিতি থাকলে কোনো কর লাগবে না। ৪ লাখ টাকা (নতুন সীমা)
(4 Lakh Taka)
পূর্ববর্তী করযোগ্য সীমা
(Previous Taxable Limit)
আগের নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩,০০,০০০ (তিন লাখ) টাকা ব্যালেন্স স্পর্শ করলেই আবগারি শুল্ক কাটা হতো। ৩ লাখ টাকা (বিলুপ্ত)
(3 Lakh Taka)
কর কাটার ফ্রিকোয়েন্সি
(Deduction Frequency)
বছরের যেকোনো সময় (১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর) হিসাবের স্থিতি ৪ লাখ টাকা বা তার বেশি হলে ব্যাংক মাত্র একবারই এই কর কাটবে। বছরে মাত্র একবার
(Once a Year)
কর কাটার নির্দিষ্ট মাস
(Deduction Month)
সাধারণত দেশের সকল রাষ্ট্রায়ত্ত ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রতি বছরের শেষ দিকে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে এই শুল্ক কেটে থাকে। ডিসেম্বর মাস
(Every December)
ঋণ হিসাবের নিয়ম
(Loan Account Policy)
ডিপোজিট বা আমানত অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি একটি লোন বা ঋণ হিসাবের বিপরীতেও বছরে সর্বোচ্চ একবারই আবগারি শুল্ক প্রযোজ্য হবে। ঋণেও বছরে একবার
(Once Per Loan Account)
আমানতকারী নোট: আবগারি শুল্ক (Excise Duty) হলো একটি পরোক্ষ কর যা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক আয়ের ওপর বসে না; বরং ব্যাংকে টাকা রাখা বা আর্থিক পরিষেবা ব্যবহারের সুবিধার ওপর ধার্য করা হয়। ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের স্বস্তি দিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই শুল্কমুক্ত সীমা বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:

এসআর