জ্বালানি সংকটের কথা প্রথমবার স্বীকার করলেন পুতিন

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন | ছবি: সংগৃহীত
0

রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের একের পর এক ড্রোন হামলার মুখে দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার কথা প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে স্বীকার করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত (রোববার, ২৮ জুন) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কিয়েভের এই হামলা রাশিয়ার জ্বালানি খাতে সমস্যা সৃষ্টি করছে। সিএনবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

পুতিন বলেন, ‘আমাদের অবকাঠামোগুলোর ওপর এই হামলাগুলো সমস্যা তৈরি করছে, তা স্পষ্ট।’ তবে তিনি দাবি করেন যে এই সমস্যা এখনো ‘সংকটজনক’ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সংকট মোকাবিলায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স কাজ করছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি জানান। বিশেষ করে অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে, যেখানে গত শুক্রবার জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি কেন্দ্র ও তেল শোধনাগারগুলো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এর ফলে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার যুদ্ধ করার সক্ষমতা কমিয়ে দিতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, ‘পুতিন যত দেরি করবেন, রাশিয়ার জন্য পরিস্থিতি তত খারাপ হবে।’

পুতিন জানান, ইউক্রেন পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি দূরপাল্লার হামলা বন্ধের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। তবে তিনি তা নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, রাশিয়ার হামলাগুলো কিয়েভ শাসনের জন্য অনেক বেশি বেদনাদায়ক ও ধ্বংসাত্মক। তার মতে, এসব হামলার লক্ষ্য হলো ডনবাস অঞ্চল দখলের মূল লক্ষ্য থেকে রাশিয়ার মনোযোগ সরিয়ে নেয়া।

জ্বালানি খাতে চাপে থাকলেও রণক্ষেত্রে রুশ বাহিনী এখনো অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্ট্যন্তিনিভকা দখলের জন্য রুশ সেনারা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে পুরো ডনবাস অঞ্চল রাশিয়ার কবজায় আসার পথ সুগম হবে। তবে কিয়েভ দাবি করেছে যে তারা এখনো শহরটি রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

এএম