তীব্র তাপদাহে পুড়ছে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ। সবচেয়ে বেশি ৪৮ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ওঠানামা করেছে জ্যাকোবাবাদ শহরের তাপমাত্রা। এখনও গরমে হাঁসফাঁস করছেন বাসিন্দারা।
অতিরিক্ত তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। রোদের তীব্রতা এতটাই বেশি যে, দু’কদম হেঁটেই পথচারীদের মাথায় পানি ঢালতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি চলার পথে তৃষ্ণা মেটাতে পানির সন্ধান করেছেন সব বয়সী মানুষ। থমকে গেছে জীবনযাত্রা।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমার বয়স ৪৫, এর আগে আমি এমন তীব্র গরম কখনো দেখিনি। বাইরেও গরম, ভেতরেও গরম। কোথাও স্বস্তি নেই।’
হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত অন্যান্য অসুস্থতায় হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। কিন্তু তাপপ্রবাহ মোকাবেলায় হাসপাতালে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা না করায় এবং বিনামূল্যে খাবার পানি সরবরাহ না থাকায় সরকারেও ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন ভুক্তভোগীরা।
আরও পড়ুন:
সিন্ধুতে বসবাসকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সরকার উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। হিটস্ট্রোক মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পানির কোনো জোগান নেই। মানুষ পানি কিনে পান করতে বাধ্য হচ্ছে।’
দাবদাহের কারণে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায়, স্থানীয় দোকানিদের ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মকভাবে প্রভাব পড়েছে। শ্রমিকদের জন্য কাজ পাওয়াও দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে দৈনন্দিন ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিছু দোকানদার দুপুরের আগেই দোকান বন্ধ করে চলে যান। শ্রমিকদের কাজও কমে গেছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।’
তিন মাস ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় শহরজুড়ে থাকা পুকুরগুলোও শুকিয়ে গেছে। এতে করে পানির জন্য হাহাকার বাড়ছে।খরায় অনেক জায়গার ফসলি মাঠও ফেটে চৌচির। তবে শনিবার থেকে তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগ। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পানের পরামর্শও দেয়া হয়।
এরইমধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেছে এল নিনোর প্রভাব। এল নিনোর হানায় গত ৭৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে চলতি বছর বিশ্বের তাপপ্রবাহ সর্বোচ্চ তীব্র হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত এল নিনো প্রভাব স্থায়ী হওয়ার পূর্বাভাসও দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। এতে করে বিশ্বজুড়েই তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা ও দাবানল ধেয়ে আসার বিষয়ে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।




