ট্রাম্পের গোপন বিমান বদল ঘিরে বিতর্ক; সাংবাদিক ও সহকারীদের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ

বিমান থেকে নেমে নিরাপত্তারক্ষীদের পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিমান থেকে নেমে নিরাপত্তারক্ষীদের পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
0

গত জুলাইয়ে তুরস্ক সফর শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনে ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ থেকে সরিয়ে নেয়ার ঘটনায় মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি থেকে ট্রাম্পকে বাঁচাতে তাকে বিমানবন্দরের খাবার সরবরাহকারী ট্রাকে করে সরিয়ে নেয়া হয়। অথচ ওই বিমানেই রয়ে গিয়েছিলেন তার জ্যেষ্ঠ সহযোগী ও সাংবাদিকেরা, যা তাদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত (সোমবার, ১২ আগস্ট) ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৮ জুলাই আঙ্কারা বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে বহনকারী মূল বিমানটি ছাড়ার ঠিক আগে এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালানো হয়। আলোকচিত্রী ও ভিডিও ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প ধীরেসুস্থে বিমানে উঠলেও ভেতরে গিয়ে তিনি একটি কার্গো কন্টেইনারে প্রবেশ করেন এবং পাশের একটি ছোট সামরিক বিমানে গিয়ে ওঠেন। এ সময় মূল বিমানে থাকা এক ডজনেরও বেশি সাংবাদিক ও জ্যেষ্ঠ সহযোগীরা বিষয়টি জানতেনই না। তারা ট্রাম্পকে ছাড়াই তুরস্ক ত্যাগ করেন।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শঙ্কা
‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানে’ কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হতে পারে বলে ইসরাইল আগেভাগে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিল। ওই বিমানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা অবস্থান করছিলেন। উড়ানের সময় সাংবাদিকদের জানালার পর্দা নামিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল সিক্রেট সার্ভিস, যা সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে সচরাচর দেখা যায় না।

এই ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাংবাদিক বলেন, ‘হোয়াইট হাউসে কাজ করা মানে প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করা নয়। সাংবাদিকদের কাজ সংবাদ সংগ্রহ করা। আমরা আমাদের পেশার খাতিরে ঝুঁকি নিই, প্রেসিডেন্টের পক্ষে ঢাল হতে নয়।’ অন্যদিকে সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই রহস্যময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ইরানি হুমকির বিষয়ে কংগ্রেসকে বিস্তারিত জানানোর দাবি তুলেছেন।

কাতার থেকে পাওয়া বিমানে বিতর্ক
ট্রাম্পের এই সফরটি আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। তিনি কাতার থেকে উপহার পাওয়া একটি বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭ বিমানে চড়ে আঙ্কারায় পৌঁছান। কিন্তু ওই বিমানে ক্ষেপণাস্ত্ররোধী সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় ফেরার সময় পুরনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। বিমানে সাংবাদিকদের পর্দা নামাতে বলার কারণ জানতে চাইলে ট্রাম্প পরে রসিকতা করে বলেন, ‘সম্ভবত এটি একটি বিপজ্জনক ফ্লাইট ছিল। আমি মরে গেলে আপনারাও তো মরে যেতেন, তাই না?’

হোয়াইট হাউস সরাসরি বিমান বদলের বিষয়টি স্বীকার না করলেও ট্রাম্পের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চুং বলেন, ‘আমেরিকার অনেক শত্রু প্রেসিডেন্টের ওপর নজর রাখছে এবং আমরা সব ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করে সেই হুমকি মোকাবিলা করি।’ এর আগে ২০০০ সালে বিল ক্লিনটন এবং ২০২৩ সালে জো বাইডেনের সফরের সময়ও অনুরূপ গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছিল।

এএম