গতকাল (শনিবার, ৬ জুন) রাতে তেহরানে পৌঁছান মহসিন নাকভি। সফরের অংশ হিসেবে তিনি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আঞ্চলিক সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে নাকভি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন।
ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই চিঠি সর্বোচ্চ নেতার কাছে পাঠানো হয়েছে।
এ সফরের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এলাকায় আন্তর্জাতিক নৌপথে হুমকি তৈরি করা দুটি ইরানি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে।
এর আগে শুক্রবার সেন্টকম দাবি করে, কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে যাওয়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে এবং হরমুজ প্রণালির দিকে ছোড়া চারটি ড্রোনও ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের দুটি উপকূলীয় রাডার লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথাও জানানো হয়।
এসব ঘটনায় উপসাগরীয় দেশগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাহরাইন এটিকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছে। কুয়েত বলেছে, এটি একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি। মিসর, জর্ডান ও কাতারও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে।
চলমান সংঘাত নিরসনে আলোচনা চললেও এখনো সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দ্রুত সমঝোতার আশাবাদ প্রকাশ করলেও ইরান আলোচনায় ‘অচলাবস্থা’ থাকার কথা বলছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মহসেন রেজাই বলেন, ‘আলোচনায় অগ্রগতি নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এই অচলাবস্থা ভাঙতে হবে।’ তিনি প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার জব্দ ইরানি সম্পদ মুক্ত করার আহ্বানও জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা শিথিল, হরমুজ প্রণালি নিয়ে নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি—এসব বিষয়ই আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে রয়েছে।
সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামে বড় প্রভাব ফেলেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিলের শুরুতে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরবর্তীতে দফায় দফায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ ফের শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।





