ডব্লিউএমও-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা পর্যায়ক্রমিক বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়া সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। সংস্থার মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের একটি শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এটি একদিকে খরা ও তীব্র দাবদাহ সৃষ্টি করবে, অন্যদিকে অতিবৃষ্টির ঝুঁকিও বাড়াবে।’
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিশ্বের অধিকাংশ স্থানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে। এই পরিস্থিতি আগামী নভেম্বর পর্যন্ত চলার সম্ভাবনা রয়েছে। এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্য এশিয়ায় অতিবৃষ্টি হলেও অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ায় খরার প্রকোপ বাড়তে পারে।
সাউলো আরও বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে মশা ও টিকবাহিত রোগের বিস্তার বাড়তে পারে এবং খাদ্য ও পানি সরবরাহে টান পড়তে পারে। বিশেষ করে যারা ইতিমধ্যে নানা সংকটে জর্জরিত, তাদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যখন মূল্যস্ফীতি চলছে, তখন এল নিনোর কারণে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোকো প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ‘ব্যারি ক্যালেবাউট’-এর প্রধান নির্বাহী হেইন শুমাখার জানিয়েছেন, ইকুয়েডর ও পশ্চিম আফ্রিকায় কোকো উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিশ্বের মোট উৎপাদনের ৬০ শতাংশই আসে এই অঞ্চলগুলো থেকে। উৎপাদন কমলে বাজারে এসব পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পরিস্থিতিকে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি জরুরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। তিনি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত সরে যাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। গুতেরেস বলেন, ‘এল নিনো পরিস্থিতি উষ্ণ হতে থাকা বিশ্বে আগুনের ওপর ঘি ঢালার মতো কাজ করবে।’





