জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকারের সহকারী কমিশনার মো. রাফিউল ইসলাম গত ২৯ মার্চ সদর, মির্জাপুর ও বাসাইল উপজেলার চার প্রশাসনিক কর্মকর্তার বদলির আদেশ দেন। সেখানে হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ছানোয়ার হোসেনকে মির্জাপুরের বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ও বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ডিএম শরিফুল ইসলামকে বদলি করা হয়। অফিস আদেশে ১ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করতে বলা হয়।
এ দিকে এক এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও ডিএম শরিফুল ইসলাম ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করেনি। তিনি রহস্যজনক কারণে মির্জাপুরের বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র বলছে, প্রকল্প পাইয়ে দেয়ার কথা বলে এক নারী ইউপি সদস্যের কাছ থেকে এক লাখ ৫১ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রকল্প পায়নি বলে শফিকুল ইসলামকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা ছাড়ছে না।
আরও পড়ুন:
ওই এলাকার রুহুল আমিন নামের এক যুবক বলেন, ‘আমার এক ভাতিজার জন্ম নিবন্ধন করা জরুরি। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকর্তা না থাকায় কয়েক সপ্তাহ ঘুরে তা করতে পারিনি। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করা হলেও ভোগান্তি লাঘবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আমি বিভাগীয় কমিশনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
আব্দুল কাদের নামের অপর যুবক বলেন, ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা না থাকায় আমার মতো নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে যারা জন্ম নিবন্ধন ও মৃত্যু সনদ করতে আসেন, তারা বেশি বিপাকে পড়েছে। কারণ এসব কাজে ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয়। এই ভোগান্তি লাঘবে জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করি।’
ডিএম শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বাঁশতৈলের চেয়ারম্যান আমাকে না ছাড়ার কারণে আমি হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করিনি। আমি কারো কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা নেইনি।’
হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর-এ-আলম তুহিন বলেন, ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা না থাকায় নাগরিক সেবাসহ বিভিন্ন কাজে বিঘ্নতা সৃষ্টি হচ্ছে।’
স্থানীয় সরকারের সহকারী কমিশনার মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’





