পরে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে করা এক পোস্টে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি এ তথ্য জানান।
পোস্টে বলা হয়, ‘দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বগুড়ার শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তত ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৪১ শতাংশ সরকারি জমি দখল করে মার্কেট ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করছিলো একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ রয়েছে, ওই দখলদারদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হকও ছিলেন, যার একার দখলেই ছিলো প্রায় ২০ শতক জমি।’
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি উপেক্ষা করে প্রভাবশালীরা বছরের পর বছর জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে জানিয়ে এ পোস্টে বলা হয়, অবশেষে প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার সকালে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানে দখলকৃত বিদ্যালয়ের জায়গা উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, গত ১১ মে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় কয়েকজন সদস্য বিষয়টি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির নজরে আনেন। অভিযোগ শুনে প্রতিমন্ত্রী দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে তদন্তে সরকারি জমি দখলের সত্যতা পাওয়া গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুন:
এ অভিযানে দখলকৃত জমির ওপর নির্মিত অবৈধ মার্কেট ও বিভিন্ন স্থাপনা অপসারণ করা হয়। অভিযানের সময় এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, ‘উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে দখলের প্রমাণ পাওয়ায় আজ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিদ্যালয়ের জমিটি বেদখলে ছিলো। অবশেষে তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এটি ছিলো শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু একটি অসাধু ও প্রভাবশালী মহল জায়গাটি দখল করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করে নিজেদের পকেট ভরেছে। বিদ্যালয়ের সম্পদ উদ্ধার করে পুনরায় স্কুলের হাতে ফিরিয়ে দেয়ায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন প্রশংসার দাবিদার।’
শিবগঞ্জ পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, ‘আমরা স্কুলের অবৈধ দখলকৃত জায়গাটি উদ্ধারে বহু জায়গায় ধর্না দিয়ে আমরা নিরাশ হয়েছি। অবশেষে জায়গাটি উদ্ধার হওয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
তবে এ বিষয়ে অবৈধ দখলদারদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের অবসানে বিদ্যালয়ের হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। একইসঙ্গে সরকারি সম্পদ উদ্ধারে প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে দৃষ্টান্তমূলক বলেও মনে করছেন তারা।





