মৃত্যুর পর কুলখানি ও চল্লিশা: সামাজিক প্রথা বনাম ইসলামি বিধান

মৃত্যুর পর খাবার খাওয়ানো কি জায়েজ
মৃত্যুর পর খাবার খাওয়ানো কি জায়েজ | ছবি: এখন টিভি
0

সৃষ্টিজগতের অমোঘ নিয়ম হলো মৃত্যু। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন, "জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে"। কারো মৃত্যুর পর আমাদের সমাজে তৃতীয় দিনে ‘কুলখানি’ (Kulkhani) এবং ৪০তম দিনে ‘চল্লিশা’ (Chelum/40th Day) উপলক্ষে বিশাল ভোজের আয়োজন করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইসলামি শরিয়তে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ মেনে এ ধরণের আনুষ্ঠানিকতার ভিত্তি কতটুকু?

ইসলামি শরিয়তে আনুষ্ঠানিকতার অবস্থান (Position of Rituals in Islam)

মৃত ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া (Supplication/Dua) এবং নফল ইবাদত করে সওয়াব পৌঁছানো একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখের বাধ্যবাধকতা নেই। বর্তমানের আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনগুলোকে সাহাবায়ে কেরাম বিলাপের (Lamentation) সমতুল্য বলে গণ্য করতেন।

আরও পড়ুন:

সওয়াব পৌঁছানোর সঠিক পদ্ধতিসমূহ (Correct Methods of Isale-Sawab)

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছানোর বেশ কিছু বৈধ পন্থা রয়েছে:

১. ভালো কাজের আলোচনা: মৃত ব্যক্তির মন্দ কাজ গোপন রেখে কেবল তার ভালো গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করা উচিত।

২. দোয়া ও ইস্তেগফার: মৃত ব্যক্তির জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। নেক সন্তানের দোয়া কবরে থাকা বাবা-মায়ের জন্য বিশেষ উপকারী।

৩. দান-সদকা: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকায়ে জারিয়া বা দান (Charity) করা হলে তিনি এর ফায়দা ভোগ করেন।

৪. কবর জিয়ারত: নিয়মিত কবর জিয়ারত (Visiting Graves) করা সুন্নত, যা পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

পদ্ধতি (Method) বিস্তারিত (Details) বিবরণ (Description)
দোয়া (Dua) ব্যক্তিগত মোনাজাত মৃতের মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা
সদকা (Charity) দান-খয়রাত গরিব-মিসকিনদের খাদ্য বা অর্থ দান
জিয়ারত (Visitation) কবর জিয়ারত সুন্নত পদ্ধতিতে কবরস্থানে গিয়ে সালাম ও দোয়া
আলোচনা (Talk) ভালো গুণের প্রচার মৃতের ভালো কাজের আলোচনা ও মন্দ কাজ গোপন রাখা

আরও পড়ুন:

এসআর