ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ এপ্রিল। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি মেয়াদ বাড়াতে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্ততাকারী দেশ পাকিস্তান। যুদ্ধ এড়িয়ে শান্তির পথে আসার কথা বলছে দুই পক্ষই। তবে এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত রয়েছে।
এমন অবস্থায় তেহরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একটি উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন দফার বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা করেছে। আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ইরান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। দুই নেতার আলোচনা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় ইরান যুদ্ধ। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন সৌদি যুবরাজ।
ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। নিয়মিত ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি জানান, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল করা ইরানসহ সব দেশের জাহাজের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘দ্বিতীয় দফার আলোচনা সম্ভবত আগের মতোই পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে। এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অসাধারণ কাজ করেছে পাকিস্তান। তাদের বন্ধুত্ব ও চুক্তি সম্পন্ন করার প্রচেষ্টার সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। যদিও বিশ্বের অন্যান্য দেশও সহায়তার হাত বাড়িয়েছে, তবে ট্রাম্প মনে করেন পাকিস্তানই এ উদ্যোগ চালিয়ে নেবে।’
আরও পড়ুন:
ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে জবাবে লোহিত, পারস্য এবং ওমান সাগরে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। পাশাপাশি লক্ষ্যবস্তু করা হবে মার্কিন জাহাজগুলোকে। এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিযোগ, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সমঝোতা বা সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। দেশটির পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামির মতে, আলোচনার সফলতা নির্ভর করবে তেহরানের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার বিষয়ের ওপর।
ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামি বলেন, ‘যেহেতু যুদ্ধ শুরু হয়েছে। তাই পরবর্তী আলোচনা এমন হওয়া উচিত যেখানে ইরানি জাতির অধিকার ও স্বার্থকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। যদি ইরানের অধিকার ও স্বার্থ স্বীকৃত হয় এবং মর্যাদা রক্ষা হয়, তবে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা ফলপ্রসূ হতে পারে। আর যদি তা না হয়, তাহলে প্রতারণার ওপর নির্ভর করে আলোচনা ব্যর্থ হবে।’
এদিকে ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনায় ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে চতুর্থবারের মতো ব্যর্থ হলো। প্রস্তাবটির বিপক্ষে ৫২ এবং পক্ষে ৪৭ ভোট পড়েছে। এর ফলে ইরানের সামরিক অভিযান পরিচালনায় কংগ্রেসের অনুমতি নিতে হবে না ট্রাম্প প্রশাসনকে।
ইরানের যুদ্ধবিরতির আলোচনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরাইল। যখন প্রয়োজন হবে, তখন দ্রুত ও আরও জোরালোভাবে ইরানে পুনরায় হামলার জন্য প্রস্তুত আছে বলে জানান ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র।





