রণাঙ্গনের গান-কবিতা-স্লোগান আজও প্রেরণার উৎস। তবে এ পরিবর্তিত সময়ে যুদ্ধের প্রতিবাদের ভাষায় লেগেছে প্রযুক্তির আঁচ। সাহিত্যের জায়গায় এসেছে এইআই ভিডিও, অ্যানিমেশন সিরিজ।
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর লেগো স্টাইলে বানানো এমনই কিছু অ্যানিমেশন ভিডিও সাড়া ফেলেছে ইন্টারনেট জগতে। রিয়েল টাইমে ঘটে যাওয়া হামলা-পাল্টা হামলার গ্রাফিক্যাল উপস্থাপনা, স্যাটায়ার ধর্মী ঘটনাপ্রবাহ ও শত্রুপক্ষকে দেয়া শক্তিশালী বার্তার কারণে যা ভাইরাল হয়েছে আপলোডের কয়েক মুহূর্তেই।
স্বল্প দৈর্ঘ্যের এ ভিডিওগুলোতে মূলত হেয় করা হয়েছে মার্কিনি ও ইসরাইলিদের। নজর কেড়েছে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর লেগো ক্যারেকটার। এ ইরানি লেগো অ্যানিমেশনের নেপথ্যে কাজ করেছে ‘এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া’ নামে একটি প্রোডাকশন হাউজ। এক্স একাউন্টের পোস্টে তারা জানিয়েছে স্বাধীনভাবেই এ প্রজেক্টে কাজ করেছে তারা।
আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২ সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতি কার্যকরের পরপরই ৩ মিনিটের আরও একটি ভিডিও আপলোড করে এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া। এ ধরণের ভিডিওকে নতুন ধাচের অনলাইন যুদ্ধ বলছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, ইন্টারনেট সচেতন তরুণরা সহজেই এআই টুল ব্যবহার করে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক কন্টেন্ট তৈরি করছে যা এরই মধ্যে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলছে।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘আমরা এক নতুন ধরনের অনলাইন যুদ্ধ দেখতে পাচ্ছি। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইন্টারনেট সচেতন তরুণ কর্মীরা এআই টুল ব্যবহার করতে পারছে যা আগে কখনও তাদের নাগালে ছিলো না। এর সহায়তায় তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক কন্টেন্ট তৈরি করে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলছে তারা।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ভিডিও’র মূল শক্তিই গতি ও একদম উপযুক্ত সময়ে সামাজিক মাধ্যমের ফিডে চলে আসার এলগোরিদম। যদিও এসব ভিডিও থেকে অপতথ্য ও ইচ্ছাকৃত ন্যারেটিভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তাদের।
এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া নাম সামনে এলেও তাদের আসল পরিচয় ২০২৫ থেকেই গোপন। যদিও তাদের অনেক ভিডিও ইরান সরকার সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকেও শেয়ার করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, এ ভিডিও’র মাধ্যমে এক শ্রেণির দর্শকের কাছে সহজে পৌঁছানো যায়। এগুলো রসিকতার জন্য বানানো হলেও এর বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ আছে।





