চতুর্থ বার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসার পথে মমতা ব্যানার্জির সরকার

জনমত জরিপের তথ্য

মমতা ব্যানার্জি
মমতা ব্যানার্জি | ছবি: সংগৃহীত
0

বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত পুরো পশ্চিমবঙ্গ। নির্বাচনে কারা জিতবে তা নিয়েও চলছে আলোচনা। সম্প্রতি এ নিয়ে পরিচালিত এক জরিপের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে চতুর্থবারের জন্য পশ্চিমবঙ্গে শাসন ক্ষমতায় আসতে চলেছে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)।

যদিও সে ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা কিছুটা কমতে পারে। আসন্ন নির্বাচনে ২৯৪ সদস্য বিশিষ্ট বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। সেখানে তৃণমূল ১৭৪ থেকে ১৮৪টি আসন জিততে পারে বলে আভাস মিলেছে জনমত জরিপে।

সর্বভারতীয় গণমাধ্যম ‘সিএনএন-নিউজ ১৮’ ভোট-ভাইব নামে একটি সংস্থার সহযোগিতায় ২০২৬ সালের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ভোট ট্র্যাকার ‘ব্যাটল ফর দ্য স্টেটস’ নামে একটি সমীক্ষা চালায়। সে জরিপ অনুসারে এ তথ্য সামনে এসেছে।

এ নির্বাচনে গতবারের তুলনায় প্রধান বিরোধী দল বিজেপি অনেকটাই ভালো অবস্থানে আসতে পারে বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনি সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি ১০৮-১১৮টি আসন পেতে পারে।

বাকি দলগুলোর মধ্যে কংগ্রেস, সিপিআইএম-চ্যালেঞ্জ জানাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হতে পারে। প্রাক-নির্বাচনি জরিপ অনুযায়ী, কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টসহ অন্যান্য দলগুলো সর্বোচ্চ ৪টি আসন পাবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:

২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ২১৫ আসনে জয় পেয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল। ওই নির্বাচনে বিজেপির আসন সংখ্যা ছিল ৭৭। সেবার তৃণমূল কংগ্রেসকে সরকারে আসার পথ আটকাতে না পারলেও সে নির্বাচন বিজেপির শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। কারণ তার আগে প্রান্তিক শক্তি হিসেবেই ধরা হত বিজেপিকে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জরিপে অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের প্রথম পছন্দ মমতা ব্যানার্জি। রাজ্যটির পরবর্তী সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ৪৬.৪ শতাংশ সমর্থন রয়েছে তার পিছনে।

তার পরেই আছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী, ৩৪.৯ শতাংশ উত্তরদাতার পছন্দ শুভেন্দু। অন্যদিকে সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিমকে ৫ শতাংশ মানুষ এবং কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে ৩.২ শতাংশ মানুষ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পছন্দ করেন। ৫.৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন জানি না।

যেসব ইস্যুতে এবারের নির্বাচন হতে চলেছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান সমস্যা বেকারত্ব ও উন্নয়ন। ৩৫.১ শতাংশ উত্তরদাতা এ অভিমত জানিয়েছে। এর পরেই রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা এবং নারী নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি।

১৮.৫ শতাংশ উত্তরদাতার অভিমত এ দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৭ শতাংশ উত্তরদাতার মতে এসআইআর বড় ইস্যু শুরু হতে পারে। ৯ শতাংশ উত্তরদাতার মতে মূল্যবৃদ্ধি এবং ১০.৩ শতাংশ উত্তরদাতার মতে দুর্নীতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ১০.৫ শতাংশ উত্তরদাতার মতে মূল্যবৃদ্ধি এবং ৯.৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন তারা বলতে পারবেন না।

আরও পড়ুন:

ধর্ম ও জাতি ভিত্তিক প্রবণতা অনুযায়ী, মুসলিমদের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি এখনও ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। জরিপ বলছে, শতকরা ৬০.৯ শতাংশ মুসলিমের প্রথম পছন্দ ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল।

আবার তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের মধ্যে বিজেপির প্রতি জোরালো সমর্থন রয়েছে, যার শতকরা হার ৫০ শতাংশ। উচ্চবর্ণের হিন্দুদের ৪৬.৮ শতাংশ বিজেপির দিকে এবং ৩৫.৪ শতাংশ তৃণমূলের দিকে ঝুঁকে রয়েছেন।

বিগত পাঁচ বছরে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রাজ্য সরকারের কর্মক্ষমতার বিষয়টিও নির্বাচনী ইস্যু হতে পারে। সরকারের কর্মক্ষমতা নিয়ে ৩০.৪ শতাংশ উত্তরদাতা ‘খুব ভালো’ রেটিং দিয়েছেন, যেখানে ১০.৬ শতাংশ ‘ভালো’, ১২.২ শতাংশ মোটামুটি', ১৫.৪ শতাংশ ‘খারাপ’ এবং ২৫.৩ শতাংশ উত্তর দাতা ‘খুব খারাপ’ বলে অভিহিত করেছেন। ৬ শতাংশ মানুষ তাদের অভিমত জানান নি।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২ আসনে এবং দ্বিতীয় ও শেষ দফায় ২৯ এপ্রিল ১৪২ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৪ মে।

এএইচ