রাজশাহীতে শিশুরোগের প্রাদুর্ভাব; শয্যা সংকটে বিপর্যয়

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড | ছবি: এখন টিভি
1

রাজশাহীতে শিশুদের হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার নিয়েছে হাসপাতালের শয্যা সংকট। এতে একদিকে বাড়ছে সংক্রমণ, অন্যদিকে দ্রুত অবনতি হচ্ছে অসুস্থ শিশুর শারীরিক অবস্থা। আইসিইউ’র অপেক্ষায় থাকতে গিয়ে দিনে অন্তত তিনজন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।

শিশু সাফিন ২২ দিন ধরে নিউমোনিয়ায় ভুগছে। ৮ মার্চ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর আইসিইউর জন্য তার সিরিয়াল ছিল ৩২ নম্বরে। ১০ দিন অপেক্ষার পরও আইসিইউ শয্যা না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় তাকে।

শিশুটির মা জানান, হাসপাতালে একটি শয্যায় চারজন পর্যন্ত শিশু রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাম, বসন্তসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি রাখায় সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি এড়াতে হাসপাতাল ছাড়তে বাধ্য হন তারা।

আক্রান্ত শিশুর মা মোছা: শিরীন বলেন, ‘আমি তিন দিন হাসপাতালে গিয়েছি। ইন্টার্ন ডাক্তার বলে নার্সের কাছে অক্সিজেন মেশিন রয়েছে। আবার নার্স বলে ডাক্তারের কাছে আছে।’

স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা কম হওয়ায় সময়মতো চিকিৎসা পাচ্ছে না শিশুরা। আইসিইউ না পেয়ে মারা যাচ্ছে অনেক শিশু। প্রতিদিনই কেউ না কেউ হারাচ্ছেন সন্তান—কান্নায় ভারি হয়ে উঠছে হাসপাতালের পরিবেশ।

আরও পড়ুন:

স্বজনরা জানান, বাচ্চার অবস্থা খারাপ থাকলেও আইসিউতে সিরিয়াল পাচ্ছেন না তারা। আইসিউয়ের অভাবে মাসে ২০টির অধিক শিশু মারা গেছে বলে জানান তারা।

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে- শিশু ওয়ার্ডে ১২০টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ জন। ফলে একটি শয্যায় চার থেকে পাঁচজনকে রেখে বাকিদের বারান্দায় জায়গা করে দিতে হচ্ছে। আর ১২টি আইসিইউ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকে অর্ধশত শিশু।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ প্রধান ডা. আবুহেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বাচ্চাদের আইসিইউ আলাদা করা জরুরি। আমরা আশাবাদী বর্তমান সরকার, স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যর ব্যাপারে গুরুত্ব দিচ্ছে। হয়তো তাড়াতাড়ি আমরা আলোর মুখ দেখতে পারবো।’

হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১১ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা ৩৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এফএস