মিতু হত্যাকাণ্ড: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ব্যাখ্যা দিতে ওসিকে তলব

আদালত প্রাঙ্গণে নিহত মিতুর সন্তানসহ আইনজীবী ও পরিবার
আদালত প্রাঙ্গণে নিহত মিতুর সন্তানসহ আইনজীবী ও পরিবার | ছবি: এখন টিভি
0

ভোলা সদর উপজেলার গোরস্থান মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় আলোচিত গৃহবধূ মিতুর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, মিতুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলেও পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে আত্মহত্যার মামলা দায়ের করেছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মনিরুল ইসলামকে তলব করেছেন বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবারের আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকন। আজ (রোববার, ৭ জুন) দুপুর ২টার দিকে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস বিফ্রিং এ তথ্য জানান তিনি।

নিহত মিতুর স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার ছিলেন। বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনার আগের দিন রাতেও পারিবারিক কলহের জেরে তাকে মারধর করা হয় বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঘটনার রাতে মিতুর ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার থেকে মিতুর মার ও খালতো বোনের ইমো নাম্বারে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বার্তা পাঠায় এবং সেখানে মিতুর শ্বশুর বাড়ির পরিবার তাকে (মিতুকে) বাঁচতে দিবে না বলে জানানো হয়।

পরদিন সকালে মিতুর স্বামী সোহাগ শাশুড়িকে (মিতুর মা) ফোন দিয়ে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। পরে বাসায় এসে মিতুর নিথর দেহ খাটে পরে থাকতে দেখে তার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনরা এসে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনা স্থল থেকে পুলিশ মিতুর মরদেহ উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

মরদেহ উদ্ধারের সময় মিতুর কপাল, বুক, হাত ও পায়ে জখমের দাগ দেখা গেছে বলে দাবি করেন স্বজনরা। এসময় মিতুর শ্বশুর বাড়ীর কাউকেই ঘটনা স্থলে পাওয়া যায়নি।

নিহতের মা ও অন্যান্য স্বজনরা বলেন, ‘আমাদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ পুলিশ সঠিক তদন্ত না করেই আত্মহত্যার মামলা রেকর্ড করেছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

এদিকে পরিবারের আরও অভিযোগ, হত্যার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে প্রভাবশালী একটি পক্ষ সক্রিয় রয়েছে। তারা শুরু থেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

পরিবার আদালতে আবেদন করলে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ভোলা সদর মডেল থানার ওসিকে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য তলব করেছেন বলে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস বিফ্রিং কালে মিতুর আইনজীবী এ তথ্য জানান। আদালত পুলিশের ভূমিকা এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান বলেও জানিয়েছে ওই আইনজীবী।

এ বিষয়ে জানতে ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সরকারি ফোন নাম্বারে কল দিলে ওসি তদন্ত জিয়াউদ্দিন জানান, আদালতের তলবের আদেশ আমরা এখনো হাতে পাইনি। হাতে পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে।

এএইচ