লাইলাতুল কদরে যে ৬টি দোয়া অবশ্যই পড়বেন

লাইলাতুল কদর
লাইলাতুল কদর | ছবি: এখন টিভি
0

পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে লুকিয়ে আছে লাইলাতুল কদর (Laylatul Qadr)। এই রাতটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় এই রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। এই মহিমান্বিত রাতে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ৬টি বিশেষ দোয়া পাঠ করা জরুরি।

একনজরে শবে কদরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিষয় (Topic) তথ্য ও আমল (Info & Deeds)
প্রধান দোয়া আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন...
ইবাদতের সময় রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাত
বিশেষ ফজিলত পূর্বের সকল গুনাহ মাফ
প্রস্তুতি তওবা, পবিত্রতা ও সুগন্ধি ব্যবহার

আরও পড়ুন:

শবে কদর নামের তাৎপর্য (Significance of the Name Shab-e-Qadr)

‘কদর’ শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে—পরিমাপ, নির্ধারণ, মর্যাদা ও মহিমা। তাফসিরে মারেফুল কোরআন (Tafsir Ma'ariful Quran) অনুযায়ী, এই রাতের আগে যাদের কোনো বিশেষ সম্মান বা মর্যাদা ছিল না, তারাও তওবা ও ইবাদতের মাধ্যমে এই রাতে মহিমান্বিত হয়ে ওঠেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগবে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি)

ফজিলত থেকে বঞ্চিত হওয়া দুর্ভাগ্য (Misfortune of Missing the Blessings)

কদরের মহিমা সম্পর্কে সতর্ক করে নবীজি (সা.) বলেছেন যে, এই রাতের কল্যাণ থেকে যে বঞ্চিত হলো, সে সত্যিই বঞ্চিত। তাই অবহেলায় এই রাত কাটিয়ে দেওয়া চরম হতভাগার লক্ষণ। এই রাতের ফজিলত (Virtues and Blessings) অর্জনের জন্য শারীরিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মনের পবিত্রতা অর্জন করা জরুরি।

শবে কদরের প্রস্তুতি ও তওবা (Preparation and Repentance)

ইবাদত কবুলের অন্যতম শর্ত হলো মনের পবিত্রতা। আল্লামা ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.)-এর মতে, কদরের রাতে উত্তম পোশাক ও সুগন্ধি ব্যবহারের মাধ্যমে বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তরিক তওবা (Sincere Repentance) ও আল্লাহমুখী হওয়ার মাধ্যমে ভেতরটা সুন্দর করা বেশি প্রয়োজন। অতীতের সব গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে এই রাতের ইবাদত শুরু করা উচিত।

আরও পড়ুন:

১. শবে কদরের বিশেষ দোয়া (Special Dua for Laylatul Qadr)

মা আয়েশা (রা.) রাসূলুল্লাহ (স.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কদরের রাতে কী দোয়া পড়বেন? তখন নবীজি (স.) এই দোয়াটি শিখিয়েছিলেন:

ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧَّﻚَ ﻋَﻔُﻮٌّ ﺗُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻌَﻔْﻮَ ﻓَﺎﻋْﻒُ ﻋَﻨِّﻲ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নী।

অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করাটা আপনার পছন্দ। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজি)

২. হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্তির দোয়া (Dua to be free from Malice)

আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার পূর্বশর্ত হলো অন্তরকে হিংসামুক্ত রাখা। এজন্য কুরআনের এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়বেন:

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِىْ قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদের ও আমাদের পূর্ববর্তী ঈমানদার ভাইদের ক্ষমা করুন। মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রেখেন না। নিশ্চয়ই আপনি পরম দয়ালু। (সুরা হাশর: ১০)


৩. শিরক থেকে বাঁচার দোয়া (Dua for protection from Shirk)

ইবাদত কবুলের অন্যতম শর্ত হলো শিরকমুক্ত থাকা। সূক্ষ্ম শিরক থেকে বাঁচতে এই দোয়াটি পড়ুন:

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ اَنْ أشْرِكَ بِكَ وَاَنَا أَعْلَمُ وَاَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَا أَعْلَمُ

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি সজ্ঞানে তোমার সঙ্গে শিরক করা থেকে আশ্রয় চাই এবং যা আমার অজ্ঞাত তা থেকেও ক্ষমা চাই।

৪. মা-বাবা ও সকল মুসলমানের জন্য দোয়া (Dua for Parents and Muslims)

প্রকৃত মুমিনরা সবার কল্যাণে দোয়া করেন। কুরআনের সেই কালজয়ী দোয়া:

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সব ঈমানদারকে আপনি সেই দিন ক্ষমা করে দিন, যেদিন হিসাব কায়েম করা হবে। (সুরা ইবরাহিম: ৪১)

আরও পড়ুন:

৫. আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের দোয়া (Dua for Allah's Grace)

আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া এবং নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতে এই দোয়াটি পড়ুন:

رَبِّ أَوْزِعْنِىٓ أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِىٓ أَنْعَمْتَ عَلَىَّ وَعَلٰى وٰلِدَىَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صٰلِحًا تَرْضٰىهُ وَأَدْخِلْنِى بِرَحْمَتِكَ فِى عِبَادِكَ الصّٰلِحِينَ

অর্থ: হে আমার রব! আমাকে আপনার নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের তৌফিক দিন এবং আমাকে সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। (সুরা নামল: ১৯)

৬. ঋণ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির দোয়া (Dua for relief from Debt and Anxiety)

মানসিক প্রশান্তি ও ঋণের বোঝা থেকে বাঁচতে নবীজি (স.) এই দোয়াটি পড়তেন:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা, দুঃখ, অলসতা, কৃপণতা, ঋণের ভার এবং মানুষের দমন-পীড়ন থেকে। (বুখারি)

বিষয় (Topic) বিস্তারিত (Details)
প্রধান ফজিলত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম সওয়াব
প্রধান আমল আন্তরিক তওবা, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির
পবিত্রতা শারীরিক পরিচ্ছন্নতা ও মনের নির্মলতা (তওবা)
পুরস্কার পূর্ববর্তী সকল গুনাহের ক্ষমা লাভ

আরও পড়ুন:

এসআর