শবে কদরের বিশেষ ১৬ আমল: হাজার মাসের সওয়াব পেতে যেভাবে রাত কাটাবেন

শবে কদরের আমল ও ফজিলত
শবে কদরের আমল ও ফজিলত | ছবি: এখন টিভি
0

পবিত্র কোরআন নাজিলের রাত ‘লাইলাতুল কদর’ (The Night of Decree)। এই রাতের গুরুত্ব ও ফজিলত এতই বেশি যে, মহান আল্লাহ এ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ সুরা নাজিল করেছেন। শবে কদরের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এই মহিমান্বিত রাতে আল্লাহর রহমত ও মাগফেরাত লাভের জন্য বিশেষ কিছু আমল (Islamic rituals) রয়েছে। নিচে শবে কদরের বিশেষ ১৬টি আমল বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো যা আপনার পরকালীন পাথেয় হতে পারে:

একনজরে শবে কদরের আমল তালিকা

  • সালাত (Prayer): তাহাজ্জুদ, সালাতুত তাসবিহ ও কাজা নামাজ।
  • তিলাওয়াত (Recitation): সুরা ইয়াসিন, আর-রাহমান ও ৪ কুল।
  • দোয়া (Supplication): সাইয়্যেদুল ইসতেগফার ও মা-বাবার মাগফেরাত।
  • জিকির (Remembrance): দরূদ শরিফ ও মাসনুন দোয়া।

আরও পড়ুন:

শবে কদরের বিশেষ আমলসমূহ (Special Deeds of Shabe Qadr)

১. নফল নামাজ (Nafil Prayer): এই রাতে যত বেশি সম্ভব নফল নামাজ পড়া।

২. দুখুলিল মাসজিদ: মসজিদে প্রবেশের পর ২ রাকাত দুখুলিল মাসজিদ (Prayer after entering the mosque) নামাজ আদায় করা।

৩. আউওয়াবিন নামাজ: মাগরিবের পর ২ রাকাত করে মোট ৬ রাকাত আউওয়াবিন (Awwabin prayer) নামাজ পড়া।

৪. তারাবিহ নামাজ: রাতের শুরুতে গুরুত্বের সাথে তারাবিহ নামাজ (Taraweeh prayer) সম্পন্ন করা।

৫. তাহাজ্জুদ নামাজ: শেষ রাতে সেহরির আগে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভে তাহাজ্জুদ (Tahajjud prayer) পড়া।

৬. সালাতুত তাসবিহ: সম্ভব হলে বিশেষ নিয়মে সালাতুত তাসবিহ (Salatul Tasbih) নামাজ আদায় করা।

৭. তাওবার নামাজ: কৃত গুনাহের জন্য লজ্জিত হয়ে ২ রাকাত তাওবার নামাজ (Salatul Taubah) পড়া।

৮. সালাতুল হাজাত: বিশেষ কোনো প্রয়োজনের জন্য সালাতুল হাজাত (Prayer for need) পড়া।

আরও পড়ুন:

৯. শোকরানা নামাজ: আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ সালাতুশ শোকর ও অন্যান্য নফল নামাজ পড়া।

১০. কোরআন তিলাওয়াত (Quran Recitation): সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুয্যাম্মিল, সুরা মুদ্দাসির, সুরা ইয়াসিন, সুরা ত্বহা, সুরা আর-রাহমান, সুরা ওয়াকিয়া, সুরা মুলক, সুরা কুরাইশ এবং ৪ কুল (Last 4 Surahs) তিলাওয়াত করা।

১১. দরূদ শরিফ: নবীজি (সা.)-এর প্রতি বেশি বেশি দরূদ শরিফ (Durood Sharif) পাঠ করা।

১২. ইসতেগফার: গুনাহ মাফের জন্য সাইয়্যেদুল ইসতেগফারসহ (Sayyidul Istighfar) অন্যান্য তওবা পড়া।

১৩. জিকির-আজকার: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার—এসব তাসবিহ ও জিকির (Dhikr) করা।

১৪. মাসনুন দোয়া: কোরআন ও সুন্নাহর বর্ণিত বিভিন্ন দোয়াসমূহ (Masnoon Dua) পাঠ করা।

১৫. দোয়া ও মোনাজাত: নিজের জন্য, পরিবার, জীবিত ও মৃত বাবা-মায়ের জন্য রোনাজারি করা।

১৬. কাজা নামাজ আদায় (Qaza Prayer): বিগত জীবনের ছুটে যাওয়া নামাজগুলো আদায়ের নিয়তে কাজা নামাজ পড়া। এতে মহান আল্লাহ বিগত জীবনের ত্রুটিগুলো কবুল করে নিতে পারেন।

আরও পড়ুন:

শবে কদরের বিশেষ আমল ও ইবাদত তালিকা

ক্রমিক আমলের নাম (Name of Deed) বিবরণ (Description)
নফল নামাজ সাধারণ নফল নামাজ যত বেশি সম্ভব পড়া।
দুখুলিল মাসজিদ মসজিদে প্রবেশের পর ২ রাকাত সম্মানসূচক নামাজ।
আউওয়াবিন নামাজ মাগরিবের পর ২ রাকাত করে মোট ৬ রাকাত নামাজ।
তারাবিহ নামাজ এশার পর জামাতের সাথে তারাবিহ শেষ করা।
তাহাজ্জুদ নামাজ শেষ রাতে সেহরির আগে বিশেষ ইবাদত।
সালাতুত তাসবিহ তসবিহ পাঠের মাধ্যমে বিশেষ নফল নামাজ।
তাওবার নামাজ গুনাহ মাফের নিয়তে ২ রাকাত নামাজ।
সালাতুল হাজাত যেকোনো বিশেষ প্রয়োজনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা।
সালাতুশ শোকর নেয়ামতের শুকরিয়া হিসেবে নফল নামাজ।
১০ কুরআন তিলাওয়াত সুরা ইয়াসিন, আর-রাহমান, কদর ও ৪ কুল পড়া।
১১ দরূদ শরিফ রাসূল (সা.)-এর প্রতি ভক্তিভরে দরূদ পাঠ।
১২ সাইয়্যেদুল ইসতেগফার শ্রেষ্ঠ দোয়া পাঠের মাধ্যমে তওবা করা।
১৩ জিকির-আজকার তাসবিহ ও আল্লাহর গুণগান গাওয়া।
১৪ মাসনুন দোয়া কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত দোয়াসমূহ পাঠ।
১৫ পারিবারিক দোয়া বাবা-মা, আত্মীয় ও মৃতদের মাগফেরাত কামনা।
১৬ কাজা নামাজ আদায় বিগত জীবনের ছুটে যাওয়া নামাজগুলো পড়া।

আরও পড়ুন:

এসআর