মহিমান্বিত রজনী পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ

পবিত্র শবে কদর
পবিত্র শবে কদর | ছবি: এখন টিভি
0

আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর (Holy Lailatul Qadr) বা শবেকদর। মহিমা, পবিত্রতা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের আবহে সূর্যাস্তের পর থেকেই সারা দেশে শুরু হবে এ বরকতময় রজনী উদ্যাপন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারা রাত ইবাদত-বন্দেগি (Worship), তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে নিজেদের সঁপে দেবেন মাবুদের দরবারে। রমজানের শেষ প্রান্তে এসে মুসলিম উম্মত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এ মহিমান্বিত রাতের (Glorious night) জন্য। এটি এমন এক পবিত্র রজনী, যার মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।

হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রজনী

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম (Better than a thousand months)।’ এ আয়াতে স্পষ্ট যে, এ রাতের ইবাদত প্রায় তিরাশি বছর চার মাসের ইবাদতের সমান সওয়াব বয়ে আনে। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ পবিত্র রাতে মহান আল্লাহ তাঁর অসীম দয়া ও রহমতের দরজা খুলে দেন। সূর্যাস্তের পর থেকে ফজর পর্যন্ত বান্দাদের জন্য ক্ষমা ও রহমতের আহ্বান (Call for mercy and forgiveness) জানানো হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোয় লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে। তবে আলেমদের অভিমত ও দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী, ২৬ রমজানের দিবাগত রাতটিই (আজ ১৬ মার্চ, সোমবার) শবে কদর হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এই মহিমান্বিত দিন উপলক্ষে আগামীকাল ২৭ রমজান, ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) সরকারি ছুটি (Public holiday)।

আরও পড়ুন:

ঐতিহাসিক পটভূমি ও শবে কদরের অর্থ

লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব বোঝাতে নবীজি (সা.) সাহাবিদের বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তির কথা বলেছিলেন, যিনি এক হাজার মাস ইবাদত করেছিলেন। সাহাবিদের কম আয়ুর কথা চিন্তা করে আল্লাহ এই উম্মতকে অল্প সময়ে অধিক সওয়াব অর্জনের সুযোগ হিসেবে এই রাত দান করেন। ‘শবে কদর’ (Shabe Qadr) কথাটি ফারসি; ‘শব’ মানে রাত এবং ‘কদর’ মানে সম্মান বা ভাগ্য। অর্থাৎ এটি মূলত ভাগ্যরজনী বা মর্যাদার রাত (Night of Decree)। এ রাতে মানুষের ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয় এবং ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে শান্তিময় বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।

দেশজুড়ে বিশেষ আয়োজন ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Prime Minister Tarique Rahman) দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।’ তিনি দেশ ও জাতির অগ্রগতি ও শান্তির জন্য দোয়া করেন।

আজকের এই পবিত্র রাতে সারা দেশের মসজিদগুলোতে তারাবিহর নামাজে কোরআন খতম (Completion of Quran in Tarawih) সম্পন্ন হবে। বিশেষ করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মাগরিবের নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কদরের ফজিলত তুলে ধরবেন। ধর্মপ্রাণ মানুষ এ রাতে কবরস্থানে গিয়ে প্রয়াত স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত (Salvation of departed souls) কামনা করবেন।

আরও পড়ুন:

বিষয় (Topic) তথ্য (Information)
শবে কদরের তারিখ ১৬ মার্চ ২০২৬ (সোমবার দিবাগত রাত)
সরকারি ছুটি ১৭ মার্চ ২০২৬ (মঙ্গলবার)
বিশেষ আমল নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির
বিশেষ দোয়া আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি

পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের রাতে আমল করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দোয়াগুলো নিচে অর্থসহ দেওয়া হলো:

১. লাইলাতুল কদরের বিশেষ দোয়া

হজরত আয়েশা (রা.) যখন নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করেছিলেন যে কদরের রাতে তিনি কী দোয়া করবেন, তখন নবীজি (সা.) এই দোয়াটি শিখিয়েছিলেন:

আরবি: اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি তো ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।

২. সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া)

এই রাতে গুনাহ মাফের জন্য এই দোয়াটি অত্যন্ত কার্যকরী:

আরবি: اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাস্তাতাতু, আউযুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবূউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবূউ লাকা বিযাম্বি ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা।

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনিই আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার গোলাম। আমি আপনার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির ওপর সাধ্যমতো অটল আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আমার ওপর আপনার যে নেয়ামত আছে তার স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আমার গুনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন, কারণ আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।

৩. জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া

শবে কদরে এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত:

আরবি: اَللّٰهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন।

৪. মা-বাবার জন্য দোয়া

এই বরকতময় রাতে নিজের মা-বাবার জন্য দোয়া করা একান্ত প্রয়োজন:

আরবি: رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيراً

উচ্চারণ: রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা।

অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! তাদের উভয়ের ওপর দয়া করুন, যেমন তারা আমাকে শৈশবে দয়া ও স্নেহে লালন-পালন করেছেন।

৫. দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের দোয়া

কোরআনের শ্রেষ্ঠ দোয়াগুলোর একটি:

আরবি: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান নার।

অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ইহকালে কল্যাণ দান করুন এবং পরকালেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের দোজখের আজাব থেকে রক্ষা করুন।


এসআর