ফেনী শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম খাল পাগলিছড়া। কিন্তু অবৈধ দখল ও ভরাটের মুখে পড়েছে খালটি। দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছে খোদ পৌরসভাও। খালের আশপাশের বাসিন্দারাও তুলেছে নানা স্থাপনা। ২০ ফুটের খাল এখন কোথাও কোথাও ৩ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।
শহরের দাউদপুলের খালে একসময় চলাচল করতো মালবাহী বাণিজ্যিক নৌকা। সেখানেও এখন ময়লার স্তূপ। জলাশয় দখল করে তরকারি আড়ত করেছে পৌরসভা। দাগনভূঞাঁর দাদনা খালের দশাও মৃতপ্রায়। ময়লা আবর্জনা ফেলে খালের প্রাণ ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন:
দখল-দূষণের কবলে জেলার ২৪৪টি খাল ও শাখা নদী। ২০২৪ এর আগস্টের শেষে ভয়াবহ বন্যার সাক্ষী এ জনপদ। স্থানীয়রা বলছেন, সেই বন্যা দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ দখল ও দূষণ। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, দফায় দফায় উদ্যোগ নিয়েও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে পারেনি। কাগজে কলমে থাকলেও ৬০ শতাংশ খালের অস্তিত্বই নেই।
খাল খনন, পরিষ্কার ও খালে প্রাণ ফিরিয়ে আনাতে নানা উদ্যোগের কথা জানান স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও ফেনী পৌরসভার প্রশাসক।
ফেনী পৌরসভার প্রশাসক মো. নবী নেওয়াজ বলেন, ‘খাল খনন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তো একটা উদ্যোগ নিয়েছেন। খননের জন্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’
সোনাগাজীর ৫৬টি, দাগনভূঞার ৫২টি, সদরের ৩৯টি, পরশুরামের ৪টি, ছাগলনাইয়ার ৩টি এবং ফুলগাজীর সব খালই এখন মৃতপ্রায়।
এক সময়ের প্রবহমান পাগলী ছড়ার মতো জেলার প্রায় সবগুলো খাল এখন ময়লার ভাগাড়। এসব খালের পানি প্রবাহ ঠিক করা না গেলে, বন্যা প্রতিবছর ভাসাবে ভাটির এ জনপদকে-এমনটাই আশঙ্কা ভুক্তভোগীদের।





