স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই পদ্ধতিগত ভোটে প্রস্তাবটি ৪৭-৫৩ ব্যবধানে পরাজিত হয়। ভোট মূলত দলীয় লাইনেই বিভক্ত ছিল। সিনেটের সব ডেমোক্র্যাট সদস্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও পেনসিলভেনিয়ার প্রভাবশালী সিনেটর জন ফেটারম্যান এর বিরোধিতা করেন।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান শিবিরের কট্টর রক্ষণশীল নেতা হিসেবে পরিচিত কেনটাকির সিনেটর র্যান্ড পল দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। ভার্জিনিয়ার সিনেটর টিম কেইনের নেতৃত্বে আনা এই প্রস্তাবে ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইনের ওপর ভিত্তি করে দাবি করা হয়েছিল যে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট কোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারেন না।
গত ছয় দিন ধরে ইরান ও ইসরাইলের যৌথ বিমান অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া হামলায় এর মধ্যে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কিছু মার্কিন সেনাও হতাহত হয়েছেন। রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্টের এই কঠোর অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, ‘কাজটি শেষ করার সুযোগ তাকে দেয়া উচিত।’
সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা ট্রাম্পের এই সামরিক পদক্ষেপের পূর্ণ সমর্থক।
আরও পড়ুন:
সিনেটের পর এবার দৃষ্টি নিম্নকক্ষ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের দিকে। সেখানেও আজ (বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ) একই ধরনের একটি প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে হাউসের স্পিকার মাইক জনসন কঠোর ভাষায় এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন। তিনি একে ‘শত্রুর পক্ষ নেয়া’ বলে অভিহিত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, তার কাছে এই প্রস্তাবটি পরাজিত করার মতো পর্যাপ্ত ভোট রয়েছে।
তবে রিপাবলিকান দলের ভেতরেই অস্বস্তি বাড়ছে। ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন এবং কেনটাকির থমাস ম্যাসির মতো কিছু রিপাবলিকান সদস্য এরইমধ্যে জানিয়েছেন যে, তারা সংবিধানের মর্যাদা রক্ষায় প্রেসিডেন্টের একতরফা ক্ষমতার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন। প্রতিনিধি ডেভিডসন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যেই হোন না কেন, তিনি কি যা খুশি করার ক্ষমতা রাখেন? আমাদের সংবিধান অন্তত তা বলে না।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এরইমধ্যে কংগ্রেসকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে দাবি করেছেন যে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং ইরানের বৈশ্বিক হুমকি নির্মূল করতেই এই হামলা। তবে ডেমোক্র্যাটরা এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন। সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার এই ব্রিফিংকে ‘অত্যন্ত অসন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের বড় ভয় হলো ‘মিশন ক্রিপ’ বা অভিযানের লক্ষ্য বিচ্যুতি নিয়ে। কানেকটিকাটের সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ব্রিফিংয়ের পর আমি আরও বেশি আতঙ্কিত যে, অচিরেই হয়তো ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী (বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড) মোতায়েন করা হবে।’
ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া ১৯৭৩ সালের এই আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে যেকোনো সামরিক অভিযানের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে জানাতে হয়। কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ৬০ দিনের বেশি কোনো বাহিনী দেশের বাইরে যুদ্ধে লিপ্ত থাকতে পারে না।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্টের এই সহজাত ক্ষমতা রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদিও এই ভোটটি ছিল মূলত প্রতীকী, কারণ এটি পাশ হলেও ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতেন। তবুও এটি বুঝিয়ে দিচ্ছে যে ইরানের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের আশঙ্কায় খোদ আমেরিকার ভেতরেই তীব্র বিভাজন তৈরি হয়েছে।
সিনেটর টিম কেইন আবেগী কণ্ঠে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যদি যুদ্ধের মতো একটি গুরুতর বিষয়ে “হ্যাঁ” বা “না” বলার সাহস আপনাদের না থাকে, তবে আমাদের দেশের সন্তানদের কোন সাহসে আপনারা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন?’





