বসন্তের আমেজ; মুকুলে ভরে উঠছে রাজশাহীর আমবাগান

রাজশাহীর আম বাগানে মুকুলে ছেয়ে গেছে গাছ | ছবি: এখন টিভি
0

মাঝ বসন্তে রাজশাহীর আম বাগানগুলো ভরে উঠেছে মুকুলে। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে সবুজ, হলদে মুকুল। গেলো বছরের চেয়ে বাগানগুলোয় এবারে মুকুলের আধিক্য বেশি। অনুকূল আবহাওয়ায় ৮০ ভাগ গাছ থেকে পূর্ণ ফলের প্রত্যাশা চাষিদের। মুকুল টেকাতে বাগানি ও ফলগবেষকরা প্রযুক্তির ব্যবহার ও যত্ন বাড়িয়েছেন বাগানে।

সতেজ ঘনসবুজ আমের বাগানগুলো এখন সোনালি হলুদাভ মুকুলে ভরপুর। ফাল্গুন চৈত্রের নাতিশীতোষ্ণ সময়ে উপযুক্ত তাপমাত্রায় আমের বাগানগুলো ছড়াচ্ছে মুকুলের মৌ-মৌ ঘ্রাণ।

ক্ষীরশাপাত, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালিসহ সবকটি গাছে দোল খাচ্ছে সবুজের আলপনা। গেল দু'বছরের মতো শুরুতেই পড়েনি কোনো প্রাকৃতিক বৈরিতায়। রাত-দিনের তাপমাত্রায় মুকুল আসার উত্তম পরিবেশ পেয়েছে বাগান।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ ফল গবেষক ড. আলীম উদ্দিন বলেন, ‘সব মিলিয়ে এবারের আবহাওয়া আমের পুষ্পায়নের জন্য সব থেকে ভালো এবং উপযোগী। ফলে এ বছর দেখা যাচ্ছে আম গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে।’

এ অবস্থায় গাছের নতুন ডালের মুকুল কুঁড়িতে স্বপ্ন বুনছেন বাগানিরা। বাগানে ৮৫ শতাংশ গাছে এসেছে মুকুল; বাড়ছে এর হার। উন্নত মুকুলের অধিকাংশই টিকিয়ে রাখতে সেচ, পোকা দমন ও বাগান পরিচ্ছন্নতায় ব্যস্ত তারা।

বাগান কর্মীরা জানান, তারা পোকা দমন করার চেষ্টা করছেন, যেন আমে পোকা না লাগে। গাছের নিচে ঘাস থাকলে পোকা হতে পারে তাই বাগান পরিষ্কারে ব্যস্ত কর্মীরা।

আরও পড়ুন:

আমের সেকেলে চাষের পরিবর্তন এসেছে। উন্নত ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তি ও বাণিজ্যিক বাগানে যত্ন বাড়িয়েছেন মালিকরা। ভেঙে ফেলা হচ্ছে অনুন্নত মুকুল, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বাগানে নালা কেটে রাখা হচ্ছে পানি। সেচের সঙ্গে হপার, ছত্রাক ও ফ্রুট-ফ্লাই দমনে গাছের কাণ্ডেও করা হচ্ছে স্প্রে।

বাগানিদের গাছে খাবারের ধরন, কীটনাশক স্প্রে, সেচ পদ্ধতিসহ উদ্ভাবিত নানা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে ফল গবেষণা কেন্দ্র। মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বলছেন, শুধু ফলন মৌসুম নয়, বছর জুড়েই এই পরিচর্যা হচ্ছে ব্যক্তি ও বাণিজ্যিক বাগানে।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গাছের মুকুল আসে যখন, মুকুল রক্ষা করতে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করার প্রযুক্তি রয়েছে। আমকে ভালোভাবে উৎপাদনের জন্য এখানে পানি ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করলে আমের ফলন বৃদ্ধি পায়।’

ফলগবেষণা কেন্দ্র ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণের তথ্যমতে, জেলায় ১৯ হাজার ১৮৮ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। যেখানে উৎপাদন হবে অন্তত ২ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিকটন আম।

গেল বছর আমের জাতভেদে মুকুল আসার পার্থক্য ছিলো। এ বছর মুকুলে ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। যত্নের সবটা শেষে ভাগশেষটা মোটা দেখতে চান বাগানিরা। তাই এখন শুধুই প্রার্থনা প্রাকৃতিক সহিষ্ণুতার।

এফএস