টানা তিন দিন ধরে তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুরু হওয়া দ্বিতীয় দফা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে মরিয়া খামেনি প্রশাসন। ইউনিভার্সিটি অব তেহরানের কাছাকাছি টহল দিচ্ছে মেশিন গানবাহী জিপ। তবে গতকালও (সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি) উত্তাল ছিল আল-জাহরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি ক্যাম্পাস।
পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে আগামী বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জেনেভায় বৈঠক করবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এর আগে তেহরানের ওপর ব্যাপকভাবে সামরিক চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে কাছাকাছি গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ন্যাটোর ঘাঁটিতে পৌঁছেছে মার্কিন রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড। ইউএস সেন্ট কমের তথ্য, এরইমধ্যে আকাশপথে হামলার পূর্ব প্রস্তুতি শেষ করেছে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সেনারা।
আরও পড়ুন:
তবে এখানেও আছে বিপত্তি। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরান ইস্যুতে পেন্টাগনের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে ট্রাম্পের। ইরান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্রুত সামরিক অভিযানের কথা বললেও এতে করে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধ বাধার শঙ্কায় সামরিক কর্মকর্তারা। যে কারণে বড় ধরনের শক্তি প্রয়োগে বাধা দিচ্ছেন তারা। তবে এসব মতভেদের খবর উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে খোদ রিপাবলিকান সিনেটরদের বড় অংশ মনে করে, যুদ্ধ জড়ালে লোকসান হবে দু’পক্ষেরই।
কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে পরিস্থিতি নজরদারি করছে তেহরান। খামেনি প্রশাসনের সাফ বার্তা, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি কখনোই বাদ দেবে না ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। যুক্তরাষ্ট্র কী চায়- সে সম্পর্কেও আমরা অবগত। সৎ মানসিকতা দেখানো হলে আমরা ভালো কিছুর আশা করতে পারি। আমরা এখন দাবিগুলো উপস্থাপন করছি। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পরবর্তী ধাপের আলোচনা শুরু করতে পারবো।’
এদিকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অর্থনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজছে ইরান। আল জাজিরার তথ্য, ট্রাস্টি বা বিশেষ অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোপনে তেল বিক্রি বাড়িয়েছে তেহরান।





