ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি: নেতানিয়াহুর জন্য ‘কৌশলগত পরাজয়’ বলছে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম

ইসরাইলি প্রাইম মিনিস্টার বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর
ইসরাইলি প্রাইম মিনিস্টার বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত হতে যাওয়া সমঝোতা চুক্তিকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় ধরনের ‘কৌশলগত পরাজয়’ হিসেবে দেখছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এক ব্যয়বহুল ও অমীমাংসিত যুদ্ধের পর ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে দেশের মাটিতে নেতানিয়াহুর গ্রহণযোগ্যতা ও অবস্থান সংকুচিত হয়েছে। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চ্যানেল ১৩ নিউজের অভিজ্ঞ সামরিক সংবাদদাতা অ্যালন বেন ডেভিড এই চুক্তিকে ইসরাইলের জন্য একটি ‘নাটকীয় ও নেতিবাচক’ দিন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এতদিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ইসরাইল এই অঞ্চলে প্রধান শক্তি ছিল, কিন্তু এই চুক্তি ইরানকে অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হওয়ার পথ করে দিচ্ছে। তার মতে, ইরান শুধু তার আটকে থাকা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারই ফেরত পাচ্ছে না, বরং আরও ৩০০ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।’ এই বিপুল অর্থ লেবানন ও ইয়েমেনে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে শক্তিশালী করবে, যা ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি।

ইন্সটিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস)-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হচ্ছে যেখানে তেহরানের শাসনব্যবস্থা শুধু অক্ষত নয়, বরং আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং তারা খোদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই কূটনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছে।’ তিনি মনে করেন, ইরানি নেতৃত্ব প্রতিকূলতা সইবার ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রমাণ দিয়েছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও ইসরাইল বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দৈনিক ক্যালকালিস্ট। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পেছনে এই যুদ্ধে ইসরাইলের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি (৫০ বিলিয়ন) শেকেল। এই অর্থের বড় অংশই ব্যয় হয়েছে বিমান হামলায় ব্যবহৃত বোমা, গোলাবারুদ এবং ফুরিয়ে আসা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর পুনরায় মজুত করতে। এখন ইসরাইলি সেনাবাহিনী বাজেটে আরও ৪ হাজার ৪০০ কোটি শেকেল (১৫ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দের দাবি তুলেছে। নেতানিয়াহু আগামী ১০ বছরে প্রতিরক্ষা বাজেট ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। ক্যালকালিস্ট অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, তিনি বহু ফ্রন্টে চলা এই যুদ্ধের ব্যয় নির্বাহের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ-এর সামরিক বিশ্লেষক আমোস হারেল এই ঘটনাকে ৭ অক্টোবরের পর নেতানিয়াহুর ইতিহাসের ‘দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যর্থতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে নেতানিয়াহুর প্রত্যাশার খুব সামান্যই পূরণ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের ফাটলও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইসরাইলের ডানপন্থি সংবাদমাধ্যমগুলো এখন ট্রাম্পকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিত্রায়িত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, অন্য কোনো দেশ হলে এমন শোচনীয় ব্যর্থতার পর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতেন, কিন্তু ইসরাইলে দায়িত্ববোধের বালাই নেই।

এএম