ঐতিহ্য আর স্বাদের অনন্য মিশ্রণ হাতে ভাজা টাঙ্গাইলের মুড়ি। প্রযুক্তির এসময়ে এসেও যার কদর অটুট। জেলার প্রত্যন্ত গ্রামেও ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত অবিরত মুড়ি ভাজায় ব্যস্ত সময় পার করছেন শত শত নারীরা। বাড়ির পুরুষরাও তাদের সহযোগিতা করছেন।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীর দৌলতপুর গ্রাম। যেখানে মাটির চুলা আর মাটির হাড়িতে তৈরি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী হাতে ভাজা মুড়ি। শুধু এ গ্রাম নয়, জেলার বিভিন্ন গ্রামে চলছে এ কর্মযজ্ঞ। মুড়ির কারিগররা বলছেন, ধানসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তেমন লাভ হচ্ছে না।
আরও পড়ুন:
পাইকার ও স্থানীয়রা বলছেন, হাতে ভাজা মুড়ি জেলার চাহিদা মিটিয়ে আশেপাশের জেলাসহ রাজধানীতে সরবরাহ করা হয়। প্রতি কেজি মুড়ি ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় কিনে ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।
পাইকার ও এলাকাবাসীরা জানান, এ এলাকার মুড়ির চাহিদা অনেক এবং গুণগত মানও ভালো। তাই দেশের বিভিন্ন স্থানে যায় এ এলাকার মুড়ি।
ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে আরও প্রসারিত এবং কারিগরদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।
টাঙ্গাইল কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘কারিগররা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়ার কারণে তারা তাদের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করতে পারছে না। কেউ যদি সরকারিভাবে ঋণ নেয়ার জন্য আসে তাহলে আমরা তাকে সুদ মুক্তভাবে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করবো।’
কর্মব্যস্ত কারিগররা কষ্ট আর ঘামের বিনিময়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ মুড়ি। তবে, তাদের টিকে থাকতে প্রয়োজন ন্যায্য দাম ও সরকারি সহায়তা।





