রোজার ধরন (Type of Fast)
নিয়ত করার শেষ সময় (Deadline)
রমজানের ফরজ রোজা
দিনের অর্ধেক সময়ের আগ পর্যন্ত সুযোগ থাকে
কাজা ও কাফফারা রোজা
অবশ্যই রাত থেকে নিয়ত করতে হবে
নির্দিষ্ট মানতের রোজা
দিনের অর্ধেক সময়ের আগ পর্যন্ত সুযোগ থাকে
অনির্দিষ্ট মানতের রোজা
রাত থেকেই নিয়ত করা আবশ্যক
নিয়াত আসলে কী? (What is Fasting Intention)
নিয়াত শব্দের অর্থ হলো অন্তরের সংকল্প। আপনি মনে মনে যদি এই ইচ্ছা করেন যে, "আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আগামীকাল রোজা রাখব", তবেই আপনার নিয়ত সম্পন্ন হয়ে যাবে। শরিয়ত অনুযায়ী নিয়তের জন্য মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে সেহরি খাওয়াও একটি পরোক্ষ নিয়ত হিসেবে গণ্য হয় (আল বাহরুর রায়েক ২/২৫৯)।
আরও পড়ুন:
নিয়ত কখন করবেন? (Correct Time for Niyat)
রমজানের রোজার নিয়ত মূলত রাত থেকেই করা যায়। বিশেষ করে ভোররাতে সেহরি (Sehri) খাওয়ার সময় যখন মনে মনে রোজা রাখার সংকল্প থাকে, তখনই নিয়ত সম্পন্ন হয়ে যায়।
রমজানের রোজা ও নির্দিষ্ট মানত: কোনো কারণে রাতে নিয়ত করতে ভুলে গেলে দিনের অর্ধেক সময় অতিবাহিত হওয়ার আগ পর্যন্ত নিয়ত করার সুযোগ থাকে।
কাজা ও কাফফারা রোজা: অনির্দিষ্ট মানত, কাজা রোজা (Qaza Fasting) কিংবা কাফফারার রোজার জন্য অবশ্যই রাত থেকে নিয়ত করা আবশ্যক। এসব ক্ষেত্রে দিনে নিয়ত করার কোনো সুযোগ নেই।
রোজার নিয়ত: আরবি ও বাংলা অর্থ (Fasting Niyat and Meaning)
নিয়ত আরবিতে করা জরুরি নয়, তবে কেউ চাইলে নিচের দোয়াটি পড়তে পারেন:
আরবি নিয়ত (Arabic): نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّى اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ
উচ্চারণ (Pronunciation): নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক; ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।
অর্থ (Bengali Meaning): হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের রোজা রাখার নিয়ত করছি, যা আপনার সন্তুষ্টির জন্য ফরজ করা হয়েছে। অতএব, আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
আরও পড়ুন:
মুসাফির ও মুকিম ব্যক্তির রোজার মাসয়ালা (Rules for Traveler and Resident)
একজন সুস্থ ও মুকিম ব্যক্তি (যিনি নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন) যদি রমজানের দিনে অন্য কোনো ওয়াজিব রোজার নিয়ত করেন, তবে সেটি রমজানের রোজা হিসেবে গণ্য না হয়ে সেই ওয়াজিব রোজাই আদায় হবে। তবে একজন মুসাফির (Traveler) যদি রমজানের দিনে নফল রোজার নিয়ত করেন, ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে সেটি রমজানের রোজা হিসেবেই সাব্যস্ত হবে।
রোজার নিয়ত সংক্রান্ত ৫টি জরুরি মাসয়ালা (5 Important Masala on Fasting)
১. আরবি বলা বাধ্যতামূলক নয় (Arabic not Mandatory): নিয়ত মূলত মনের বিষয়। আরবিতে নিয়ত করা জরুরি বা পৃথক সওয়াবের কাজ নয়। বাংলা বা নিজ ভাষায় সংকল্প করলেই হবে।
২. নিয়তের সময়কাল (Time for Niyat): রোজার নিয়ত রাতে করাই উত্তম। তবে যদি রাতে করতে ভুলে যান, তবে ‘যাহওয়াতুল কুবরা’ (Dahwatul Kubra) অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়ের আগে নিয়ত করলেও রোজা হয়ে যাবে।
৩. প্রতিদিনের নিয়ত আলাদা (Separate Niyat for Each Day): পুরো রমজানের জন্য একবার নিয়ত করলে হবে না। প্রতিটি রোজা যেহেতু আলাদা ইবাদত, তাই প্রতিদিনের জন্য পৃথক নিয়ত করতে হবে (বুখারি ১/২)।
৪. নিয়ত করার পর পানাহার (Eating after Niyat): রাতে নিয়ত করার পরও সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত পানাহার বা স্ত্রী মিলন জায়েজ। এতে নিয়তের কোনো ক্ষতি হবে না।
৫. অজ্ঞান বা পাগল হলে (Unconsciousness Rules): নিয়ত করার আগেই যদি কেউ অজ্ঞান হয়ে যায় এবং দিনের অর্ধেক সময়ের (যাহওয়াতুল কুবরা) আগে সুস্থ না হয়, তবে সেই রোজা গণ্য হবে না এবং পরবর্তীতে কাজা করতে হবে।
আরও পড়ুন:
বিষয় (Topic)
বিবরণ (Description)
নিয়তের প্রধান মাধ্যম
অন্তরের গভীর সংকল্প (সেহরি খাওয়াও নিয়ত হিসেবে গণ্য)
সর্বশেষ সময়
যাহওয়াতুল কুবরা (সুবহে সাদিক ও দুপুরের মাঝামাঝি সময়)
আরবি ও বাংলা
আরবি বলা বাধ্যতামূলক নয়; নিজ ভাষায় সংকল্প করাই যথেষ্ট
প্রতিদিনের রোজা
প্রতিটি রোজা স্বতন্ত্র ইবাদত, তাই আলাদা নিয়ত জরুরি




