টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেললে কতটা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বাংলাদেশ?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ | ছবি: এখন টিভি
0

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ (T20 World Cup 2026) নিয়ে উত্তাল ক্রিকেট বিশ্ব। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই সাহসী সিদ্ধান্তের কারণে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)।

একনজরে: বিশ্বকাপে না যাওয়ার মূল কারণসমূহ

  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিশ্চিত করেছেন, বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে না।
  • নিরাপত্তা ঝুঁকি: ভারতে খেলোয়াড় ও সাংবাদিকদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই বলে মনে করে বিসিবি। বিশেষ করে উগ্রবাদীদের হুমকির বিষয়টি আইসিসি বা ভারত সরকার গুরুত্ব না দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত।
  • আইসিসির অনমনীয়তা: ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ আইসিসি নাকচ করে দেওয়ায় এবং সূচি পরিবর্তন না করায় বাংলাদেশ সরে দাঁড়াচ্ছে।
  • বিকল্প দল: বাংলাদেশ অংশ না নিলে র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী তাদের জায়গায় খেলার সুযোগ পাবে স্কটল্যান্ড (Scotland)।
  • খেলোয়াড় ও সরকার: অধিকাংশ ক্রিকেটার খেলতে আগ্রহী থাকলেও দেশের সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি) জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল (Asif Nazrul) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইসিসির নিরাপত্তা মূল্যায়ন গ্রহণযোগ্য নয় এবং বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে না। এর ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের নাম প্রত্যাহার প্রায় নিশ্চিত।

আরও পড়ুন:

৩৩০ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতি (Financial Loss of 330 Crore BDT)

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ বয়কট করলে বাংলাদেশের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (27 Million USD), যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা। বিসিবির বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ (60% of Annual Revenue) আসবে না এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে। মূলত সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং আইসিসির লভ্যাংশ হারানোর কারণেই এই বিপর্যয় ঘটবে।

আইসিসির অবস্থান ও বিকল্প দল (ICC Stance and Alternative Team)

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বিশ্বকাপের সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিসিবিকে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত না পাল্টানোয় র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী স্কটল্যান্ড (Scotland) বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। স্কটল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরিস্থিতি বুঝে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেবে।

আরও পড়ুন:

কেন এই সিদ্ধান্ত? (Reason for the Boycott)

বিসিবি অনুরোধ করেছিল তাদের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) নেওয়ার জন্য। কিন্তু আইসিসি সেই অনুরোধ নাকচ করে দেওয়ায় এবং খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস না করার অবস্থানে অনড় থাকায় বাংলাদেশ এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

বিশ্বকাপ বয়কট |ছবি: এখন টিভি

আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ও বিশ্লেষণ (Financial Loss Table)

বিশ্বকাপ না খেলার ফলে বিসিবি যে বিশাল অঙ্কের ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে, তার একটি আনুমানিক হিসাব নিচে দেওয়া হলো:

ক্ষতির খাত (Sectors of Loss)পরিমাণ (USD)পরিমাণ (BDT)
আইসিসি লভ্যাংশ (ICC Revenue Share)$20 - $22 Million২৪০ - ২৬০ কোটি টাকা
সম্প্রচার স্বত্ব (Broadcasting Rights)$3 - $4 Million৩৬ - ৪৮ কোটি টাকা
স্পনসরশিপ ও অন্যান্য (Sponsorships)$2 Million২৪ কোটি টাকা
মোট সম্ভাব্য ক্ষতি (Total Estimated Loss)$27 Million৩৩০ কোটি টাকা (প্রায়)

নোট: এই ক্ষতি বিসিবির মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ। এর ফলে ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে।

আরও পড়ুন:


এসআর