
গ্রাহক পর্যায়ে কোন ধাপে ইউনিটে কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম?
বাজেটকে সামনে রেখে দেশে পাইকারি ও গ্রাহক (খুচরা) উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি (Electricity Price Hike) করেছে সরকার। নতুন এই দাম চলতি বছরের ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।

পাইকারিতে প্রায় ২০, খুচরায় ১৫-২০ শতাংশ বাড়লো বিদ্যুতের দাম
গ্রাহক ও পাইকারি—উভয় পর্যায়ে বাড়লো বিদ্যুতের দাম। গণশুনানির বিশ্লেষণ শেষে খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৫ থেকে ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এই মূল্যহার চলতি জুন মাসের বিল থেকেই কার্যকর হবে।

জ্বালানির পর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব: ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের উদ্বেগ
জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ার পরপরই বিদ্যুতের দাম বাড়াতে বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবে উদ্বেগ আর আতঙ্ক ছড়িয়েছে ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের মাঝে। উদ্যোক্তারা বলছেন, এবছরই জ্বালানি, পরিবহন ও শিল্পের কাঁচামালসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বেড়েছে। এমন অবস্থায় বিদ্যুতের দাম বাড়ালে রুগ্ন হয়ে পড়বে অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির
বিদ্যুতের দাম ২১ থেকে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে পিডিবি। রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে গণশুনানির প্রথম দিনে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে পক্ষে বিপক্ষে চলে যুক্তি উপস্থাপন। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে চলতি অর্থবছর ঘাটতির পরিমাণ ৬৩ হাজার কোটিতে দাঁড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়। তবে প্রতি ইউনিটে দেড় টাকা বাড়ালে ঘাটতি কমবে সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি ও জ্বালানি খাতে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তদের বিচার দাবি
জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি আনার দাবি জানিয়েছেন গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। গণদাবি অনুযায়ী, বিদ্যুতের দাম কমাতে এই খাতে ব্যয় সংকোচনের প্রস্তাবনা থাকলেও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় বাস্তবায়ন কঠিন বলে মন্তব্য করেন বক্তারা। এছাড়া, ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর ও বায়ু বিদ্যুতের মূল্যহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা করার আহ্বান জানান তারা।

২৪ টাকার আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়
উত্তোলন মৌসুমের ২৪ থেকে ২৮ টাকার প্রতি কেজি আলু হিমাগারসহ ব্যবসায়ীদের কয়েক হাত বদল হয়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ খরচ বাড়ায় ভাড়া বাড়িয়েছেন হিমাগার মালিকরা। এছাড়া পরিবহন, শ্রমিক, হাট-ইজারার খরচ বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা পর্যায়ে।

'ডলার সংকটে পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ রাখায় লোডশেডিং করতে হয়েছে'
ডলার সংকটের কারণে বন্ধ রাখতে হয়েছে পাওয়ার প্ল্যান্ট। তাই সক্ষমতা থাকতেও এপ্রিলজুড়ে প্রচণ্ড দাবদাহে লোডশেডিং করতে হয়েছে বলে জানালেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। 'এখন টিভি'কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।

বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের নামে বাড়লে ভোক্তার চাপ বাড়বে
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনে বছরে চারবার বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের নামে বাড়ালে ভোক্তার ওপর চাপ বাড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ভর্তুকি কমাতে দাম বাড়ানো নয়, বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। একইসঙ্গে সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যৌক্তিক নয় বলেও মনে করেন তারা।

ফেব্রুয়ারি থেকেই বিদ্যুতের নতুন দাম কার্যকর, আজই প্রজ্ঞাপন
পাইকারি পর্যায়ে বর্তমানে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের খরচ ৬.৭০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৭.০৪ টাকায়, আর খুচরা পর্যায়ে ইউনিট প্রতি খরচ ৮.২৫ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৮.৯৫ টাকায়।

১৪ বছরে খুচরায় বিদ্যুতের দাম বাড়ল ১৩ বার
ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এবার বিদ্যুতের খরচ বাড়ছে ইউনিটপ্রতি ২৮ পয়সা থেকে ১ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত। ধাপে ধাপে সরকারের ভর্তুকি তুলে নেয়ার কৌশলে সামনের দিনগুলোতেও বিদ্যুৎ কিনতে আরও বাড়তি পয়সা গুনতে হবে গ্রাহককে। পাওয়ার সেল বলছে- এই সমন্বয় প্রক্রিয়ায় খরচের পুরোটাই গ্রাহকের ওপর চাপালে বিদ্যুতের দাম বাড়তে পারে ইউনিটপ্রতি অন্তত ৪ টাকা।
-320x180.webp)
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির খবরে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির খবরে সাধারণ ভোক্তা থেকে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা বলছেন, এমন মূল্যস্ফীতির বাজারে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি তাদের দীর্ঘমেয়াদে ভোগাবে।

ইউনিটপ্রতি ৩৮-৭০ পয়সা বাড়ছে বিদ্যুতের দাম
প্রতি ইউনিটে বিদ্যুতের দাম বাড়লো ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা। মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।