বিদ্যুৎ বিভাগের অনুরোধে বিইআরসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (BERC latest decision on electricity price)
বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষ অনুরোধে আবাসিক খাতের শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট (লাইফলাইন) এবং শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট (প্রথম ধাপ) পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের বর্ধিত মূল্য পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলো। বিইআরসি সব বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিদ্যুতের দাম সংশোধন (Electricity Price Revision) সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশই এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায়, সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশের কোটি কোটি সাধারণ গ্রাহক সরাসরি উপকৃত হবেন।
কোন ২ শ্রেণির গ্রাহক আগের দামে বিদ্যুৎ পাবেন? (Who will get lower electricity tariff?)
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (Power Development Board - PDB) আবাসিকের প্রান্তিক ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের বাড়তি দাম প্রত্যাহারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিইআরসির কাছে আবেদন করেছে। এই দুই শ্রেণির গ্রাহকেরা হলেন:
১. লাইফলাইন গ্রাহক (০-৫০ ইউনিট): ইউনিটপ্রতি প্রস্তাবিত ৬৯ পয়সা বৃদ্ধি বাতিল হওয়ায় এই শ্রেণির গ্রাহকেরা আগের রেট প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা হারেই বিল পরিশোধ করবেন। এতে তাদের মাসে বাড়তি ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা গুণতে হবে না।
২. প্রথম ধাপের গ্রাহক (০-৭৫ ইউনিট): ইউনিটপ্রতি প্রস্তাবিত ৯২ পয়সা বৃদ্ধি প্রত্যাহার হওয়ায় এই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য আগের দাম প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা বহাল থাকছে। ফলে তাদের মাসে বাড়তি ৬৯ টাকা বিলের বোঝা থেকে রেহাই দেওয়া হলো।
আরও পড়ুন:
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, সব বিতরণ কোম্পানির পক্ষ হয়ে পিডিবি এই বিদ্যুতের দাম সংশোধন (Electricity Price Revision) এর আবেদন করেছে এবং কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
সংশোধন না হলে কার কত বিল বাড়ত? (Impact of electricity bill increase)
গতকাল বুধবার পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই বিদ্যুতের নতুন দাম (New Electricity Tariff) ঘোষণা করা হয়, যা চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা। সেখানে পাইকারি পর্যায়ে ১৯.৮৫%, সঞ্চালন চার্জ ২৩.৯৬% এবং গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ১৬.৬৮% দাম বাড়ানো হয়েছিল। এর ফলে নিম্ন আয়ের প্রান্তিক গ্রাহকদের ওপর যে চাপ পড়ত:
লাইফলাইন গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট): ইউনিটপ্রতি দাম ৬৯ পয়সা বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছিল, যাতে মাসে বিল বাড়ত ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা।
প্রথম ধাপের গ্রাহকদের (০-৭৫ ইউনিট): ইউনিটপ্রতি দাম ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়েছিল, যাতে মাসে বিল বাড়ত ৬৯ টাকা।
দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৬৫ শতাংশই এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। দাম সংশোধন করা হলে লাইফলাইন গ্রাহকেরা আগের রেট প্রতি ইউনিট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীরা প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ২৬ পয়সা হারে বিল দিতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
পাইকারি ও উচ্চ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে দাম অপরিবর্তিত ,(Wholesale electricity price update)
প্রান্তিক ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের বাড়তি দাম প্রত্যাহার করা হলেও অন্যান্য সব শ্রেণীর গ্রাহকদের জন্য গতকাল ঘোষিত বর্ধিত মূল্যই কার্যকর থাকবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৯.৮৫ শতাংশ, সঞ্চালন চার্জ ২৩.৯৬ শতাংশ এবং উচ্চ ও বাণিজ্যিক গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত মূল্য চলতি জুন মাস থেকেই কার্যকর হচ্ছে।
আগের কম দামেই বিদ্যুৎ পেতে যাচ্ছেন ২ শ্রেণির গ্রাহক
গ্রাহক শ্রেণী (Customer Category)
পূর্বের দাম / সংশোধিত রেট (Old Rate)
ঘোষিত নতুন দাম (Announced New Rate)
বর্তমান অবস্থা ও সিদ্ধান্ত (Current Status)
লাইফলাইন গ্রাহক
(০ - ৫০ ইউনিট)৪.৬৩ টাকা / ইউনিট
৫.৩২ টাকা / ইউনিট
(৬৯ পয়সা বৃদ্ধি)বাড়তি দাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছে পিডিবি (PDB)। আগের দামেই বিল দেওয়ার সুযোগ পাবেন গ্রাহকেরা। বিইআরসি (BERC) দ্রুতই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
প্রথম ধাপের গ্রাহক
(০ - ৭৫ ইউনিট)৫.২৬ টাকা / ইউনিট
৬.১৮ টাকা / ইউনিট
(৯২ পয়সা বৃদ্ধি)
পাইকারি ও অন্যান্য পর্যায়
(Wholesale & Transmission)আগের রেট প্রযোজ্য
পাইকারি: ১৯.৮৫% বৃদ্ধি
সঞ্চালন চার্জ: ২৩.৯৬% বৃদ্ধিঅন্যান্য সব শ্রেণীর গ্রাহকদের জন্য জুন মাস থেকেই কার্যকর হবে।


