সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সবচেয়ে বড় হতাশার নাম এখন এমবাপ্পে!

রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়ার কিলিয়ান এমবাপ্পে
রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়ার কিলিয়ান এমবাপ্পে | ছবি: সংগৃহীত
0

কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দলে ভেড়ালে রিয়াল মাদ্রিদ অপরাজেয় হয়ে উঠবে ভাবা হয়েছিলো, সে এমবাপ্পেই এখন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সবচেয়ে বড় হতাশার নাম। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৪ মে) দিবাগত রাতে ঘরের মাঠে জিতলেও দর্শকদের দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে ফরাসি এ তারকাকে। এ ক্ষোভ যে কেবল এক ম্যাচের পারফরম্যান্সের জন্য নয়, বরং পুরো মৌসুমজুড়ে দলের ব্যর্থতার দায়টা পড়েছে তার ওপর।

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারি থেকে ধেয়ে আসা শিষ আর দুয়োধ্বনি কেবল গত রাতের ম্যাচের ৯০ মিনিটের জন্য নয়। এটি আসলে রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের দুই বছরের জমানো হতাশা আর ক্ষোভের এক সম্মিলিত বিস্ফোরণ। যে হতাশার কেন্দ্রে রয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় সাইনিং কিলিয়ান এমবাপ্পে।

আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে মাদ্রিদে এসেছিলেন এ ফরাসি ফরোয়ার্ড। ভাবা হয়েছিলো, তিনি এলেই রিয়াল কেবিনেট ভরে উঠবে ট্রফিতে। কিন্তু দুই মৌসুম পার হয়ে গেলেও রিয়ালের প্রাপ্তির খাতা শূন্য। এমন বড় তারকা দলে থাকার পরেও দল কেন বড় কোনো ট্রফি জিততে পারছে না, সমর্থকদের মনে এখন এটাই বড় প্রশ্ন। পর পর দুই মৌসুম ট্রফিলেস থাকা মাদ্রিদ সমর্থকদের হতাশা আর ক্ষোভের মাশুল দিতে হচ্ছে তাকে।

এ মৌসুমে এমবাপ্পের থেকে রিয়াল পেয়েছে ৪১ ম্যাচে ৪১ গোল, নিজের পারফরম্যান্সটা নেহাতই মন্দ নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবের প্রতি তার নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন

সমর্থকদের ক্ষোভ, অন্য জায়গায়, নিজে গোল করলেও আত্মকেন্দ্রিক খেলার ধরন, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্বলে উঠতে না পারা, সতীর্থদের সাথে সম্পর্ক ভালো না থাকা, দলের বাজে ফল, আর সবশেষে যোগ হয়েছে ইনজুরিতে থাকা এমবাপ্পে, বিশ্রামে থাকার কথা থাকলেও সার্ডিনিয়ায় তার ছুটির ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে।

থাই ইনজুরি থেকে সেরে উঠার পর তিনি বৃহস্পতিবার বদলি হিসাবে প্রথমবার মাঠে নামেন, এমবাপ্পের এক অ্যাসিস্টে; এদিন রিয়াল মাদ্রিদ ২-০ গোলে জয় পেলেও তাকে শিস শুনতে হয় দর্শকদের একাংশের থেকে।

রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাস বলে, এখানে দর্শক যেমন মাথায় তুলতে জানে, ঠিক তেমনি ব্যর্থতার দায়ে ছুঁড়ে ফেলতেও দ্বিধা করে না। ট্রফিহীন এ মৌসুমের পর এমবাপ্পে কি পারবেন আগামী মৌসুমে বার্নাব্যুর এ ক্ষোভকে করতালিতে রূপান্তর করতে? উত্তরটা সময়ই বলে দেবে।

জেআর