টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে তিনবার সেমিফাইনাল খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দু’বার হারলেও, একবার জয় পায় প্রোটিয়ারা। এবার মিলিয়ে চারবার সেমিফাইনাল খেলে তিনবার হারতে হলো দলটিকে।
২০০৯ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৭ রানে হেরে যায় প্রোটিয়ারা। দুই আসর পর ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৬ উইকেটে হার মানে দক্ষিণ আফ্রিকা।
দশ বছর পর ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল উঠে দক্ষিণ আফ্রিকা। তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠে অবশেষে জয়ের দেখা পায় প্রোটিয়ারা। সেবার আফগানিস্তানকে ৯ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মত ফাইনালের টিকিট পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
কিন্তু এবার ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আবারও সেমিফাইনালে হেরে গেল দলটি।
আরও পড়ুন:
এদিন ব্যাটে-বলে পুরোপুরি দাপট দেখিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ১৭০ রানের লক্ষ্যে প্রোটিয়াদের ওপর শুরু থেকে চড়াও হয়ে খেলেছেন দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়েই জয়ের মঞ্চ গড়ে তারা। পাওয়ার প্লেতেই তারা যোগ করেছে ৮৪ রান। ৯.১ ওভারে যোগ করে ১১৭। রাবাদার ডেলিভারিতে ৩৩ বলে ৫৮ রান করা সেইফার্ট ফিরলে ভাঙে শুরুর জুটি। যার ইনিংসে ছিল দু’টি ছয় ও সাত চারের মার।
কিন্তু ফিন অ্যালেন ছিলেন বিধ্বংসী। তার তাণ্ডবে ইডেন গার্ডেনসে ১২.৫ ওভারেই জয় নিশ্চিত করেছে নিউজিল্যান্ড। শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরিও পূরণ করেছেন ফিন অ্যালেন। তার ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৮ ছক্কার মার। তার সঙ্গে ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন রাচিন রবীন্দ্র।
এর আগে মার্কো ইয়ানসেনের অপরাজিত ৫৫ রানে ভর করে ৮ উইকেটে ১৬৯ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকা।
আরও পড়ুন:
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রত্যাশিত ব্যাটিংটা করতে পারেনি প্রোটিয়া দল। দ্বিতীয় ওভারেই অফ স্পিনে আঘাত হানেন ম্যাককনচি। ১০ রানে কুইন্টন ডি কককে ফিরিয়ে দেন তিনি। পরের বলে সাজঘরে ফেরান রায়ান রিকেলটনকে। তার জোড়া আঘাতে পাওয়ার প্লেতে বিপদে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।
লকি ফার্গুসনের বলে মিডউইকেটে রাচিন রবীন্দ্রের ক্যাচ মিসে তিন রানে জীবন পান এইডেন মারক্রাম। পরে বামহাতি স্পিনার রাচিনই তাকে ব্যক্তিগত ১৮ রানে ফিরিয়েছেন। দলের ৫৫ রানে ফেরেন তিনি।
তিন রানে গ্লেন ফিলিপসের হাতে জীবন পাওয়া ডেভিড মিলারও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৬ রানে রাচিনের শিকার হন তিনি। ঝড়ো ব্যাটিং করতে থাকা ব্রেভিসকেও ৩৪ রানে থামান জিমি নিশাম। ব্রেভিসের ২৭ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়। তাতে ১০.২ ওভারে অর্ধেক উইকেট হারিয়ে পথ হারানোর ইঙ্গিত দেয় তারা। ৭৭ রানে হারায় পঞ্চম উইকেট। তখনই ট্রিস্টান স্টাবস ও ইয়ানসনের ৭৩ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে প্রোটিয়া দল।
আরও পড়ুন:
স্টাবসকে (২৯) বোল্ড করে জুটি ভাঙেন ফার্গুসন। এই জুটি থাকলে স্কোর আরও বাড়তো। কিন্তু ইয়ানসেন থেমে থাকেননি। ৩০ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় শেষ পর্যন্ত ৫৫ রানে অপরাজিত থেকে স্কোর ১৬৯ রানে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখেন।
দু’টি করে উইকেট নেন রাচিন রবীন্দ্র, ম্যাট হেনরি ও কোল ম্যাককনচি। একটি করে নেন লকি ফার্গুসন ও জেমস নিশাম।



