হারলে লড়াই থেকে বাদ আর জিতলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিতে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা। এমন সমীকরণ নিয়ে রাওয়ালপিন্ডিতে খেলতে নামে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালো করেন বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম এবং নাজমুল হোসেন শান্ত।
শুরুর আট ওভার নিউজিল্যান্ডের দুই পেসার ম্যাট হেনরি এবং কাইল জেমিসনের বলের গতি সামলে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের আশা জাগায় এই দুই ব্যাটার। তবে রাওয়ালপিন্ডির ব্যাটিং বান্ধব উইকেটেও বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি জুনিয়র তামিম। নবম ওভারে স্পিনার মাইকেল ব্রেসওয়েলের বলে উইলিয়ামসনকে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। তার ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান।
ওয়ানডাউনে নামা মেহেদী হাসান মিরাজও হয়েছেন ক্যাচ আউট। উইল ও রুর্কের বলে মিড অনে থাকা স্যান্টনারকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে। লড়াইয়ের ময়দানে এক প্রান্ত আগলে রাখা শান্তকে সঙ্গ দিতে ব্যর্থ আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান তাওহীদ হৃদয়ও। ফিরলেন মাত্র ৭ রান করে।
দলের ধসে কিউইদের বিপক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে পারেনি অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। গেলো ম্যাচে গোল্ডেন ডাক মারা মুশফিক এদিন ফেরেন ২ রানে। আর রিয়াদকে দলে ফেরাতে পরিবর্তন করতে হয়েছে ওপেনিং কম্বিনেশনই। তবে এর প্রতিদান ব্যাট হাতে দিতে পারেননি রিয়াদ। ফিরেছেন ব্যক্তিগত ৪ রানে।
দুই অভিজ্ঞের আসা যাওয়ার মাঝে ৭১ বল খরচে নিজের দশম অর্ধশতক করেন শান্ত। এরপর ষষ্ঠ উইকেটে জাকের আলি অনিকের সঙ্গে শান্তর জুটিতে বড় রানের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সমর্থকরা। তবে ৭৭ রান করে রুর্কের বলে নিজের উইকেট হারান বাংলা অধিনায়ক।
ধুঁকতে থাকা দলের বিপদে রান আউট হওয়ার আগ রিশাদ-তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করেছেন জাকের। তার ব্যাটে আসে ৪৫ রান। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ২৩৬ রান।
জবাবে রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তাসকিন এবং নাহিদ রানার বলের ঘুর্ণিতে উইল ইয়ং এবং কেইন উইলিয়ামসনের উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড।
তৃতীয় উইকেটে ডেভন কনওয়ে এবং রাচিন রাবিন্দ্রের জুটি কিউইদেরকে সহজ জয়ের আশা দেখালেও, ব্যক্তিগত ৩০ রানে কনওয়েকে মাঠ ছাড়া করেন কাটার মাস্টার ফিজ।
টম ল্যাথাম এবং রাবীন্দ্রার ব্যাটে জয়ের অনেক কাছাকাছি পৌঁছে গেলে নিউজিল্যান্ডের ডেরায় আঘাত হানেন রিশাদ হোসেন। ১২৯ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন রবিন্দ্র। এর আগে করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি।
৪২ ওভার চলাকালীন ল্যাথামকে আউট করলেও জয়ের ঝান্ডা উড়ানো থেকে থামানো যায়নি ব্ল্যাক ক্যাপদের। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ২৩ বল হাতে রেখে সেমিফাইনালে খেলা নিশ্চিত করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ব্রেসওয়েল।