ক্রিকেট
এখন মাঠে

ডাচদের হারিয়ে সুপার এইটের পথে টাইগাররা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ২৫ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ম্যাচ জিততে স্লোয়ার আর কাটারে রান আটকানোর দায়িত্বটা সামলেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। হুমকি হয়ে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসকে ম্যাচ জিততে দেয়নি বাংলাদেশ। শেষের দারুণ বোলিংয়ে ২৫ রানে হারিয়ে সুপার এইটের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

সেন্ট ভিনসেন্টে ১৬০ রান তাড়ায় সাবধানী শুরু করেছিলেন নেদারল্যান্ডসের দুই ওপেনার মাইকেল লেভিট এবং ম্যাক্স ও'ডাউড। নিজের দ্বিতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে তাদের দুজনের জুটি ভেঙেছেন তাসকিন আহমেদ। ডানহাতি এই পেসারের বলে জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে কাভারে থাকা তাওহীদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন লেভিট। ডাচ এই ওপেনার ফিরেছেন ১৮ রানে। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশকে উইকেট এনে দিয়েছেন তানজিম হাসান সাকিবও।

উইকেট হারালেও প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি মেরে গেছেন ডাচ ব্যাটাররা। তিনে নামা বিক্রমজিত সিং ছিলেন শুরু থেকেই আক্রমণাত্বক। নিজের প্রথম ওভারে বোলিংয়ে এসে তার ঝড় থামিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

অভিজ্ঞ এই স্পিনারের বলে বিক্রমজিতকে ফিরতে হয়েছে লিটন দাসের কাছে স্টাম্পিং হয়ে। ঝড় তোলা এই ব্যাটার আউট হয়েছেন ১৬ বলে ২৬ রানকরে। তৃতীয় উইকেটে ৩১ বলে ৪২ রানের জুটি দারুণ এক জুটি গড়ে বাংলাদেশকে চোখ রাঙাচ্ছিলেন সাইব্র্যান্ড ও এঙ্গেলব্রেচ।

১৫তম ওভারে টানা দুই উইকেট তুলে নিয়ে ডাচদের চাপে ফেলেন রিশাদ হোসেন। এই লেগ স্পিনারের অফ স্টাম্পের বাইরে টার্ন করে বেরিয়ে যাওয়া বলের লাইন মিস করে আউটসাইড-এজড হয়ে কাভারে তানজিম সাকিবের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হয়েছেন তিনি। ফলে ২২ বলে ৩৩ রান করে ফিরে যেতে হয় এঙ্গেলব্রেচকে।

পরের ব্যাটার বাস ডি লিডকেও থিতু হতে দেননি এই তরুণ লেগি। তার টার্নে পরাস্ত হন ডি লিড। উইকেটের পেছনে দ্রুতগতির লিটন তাকে করেছেন স্টাম্পিং।

ইনিংসের ১৬ তম ওভারের শুরুতেই মুস্তাফিজ ফেরান ডাচদের শেষ ভরসা অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসকে। জাকের আলী অনিকের তালুবন্দী হন এই ব্যাটার। পরের ওভারের প্রথম বলেই কোনো রান না করে রিশাদের বলে তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লোগান ভ্যান উইক।

শেষ দুই ওভারে যখন ৩৬ রান প্রয়োজন মুস্তাফিজের জাদুকরী ওভারে ৩ রানের বেশি তুলতে পারেননি আরিয়ান দত্ত ও টিম প্রিঙ্গেল। যথারীতি শেষ ওভারে তাসকিনের এক্সপ্রেস গতির সামনে পেরে ওঠেনি লেজের দুই ব্যাটার। ইনিংসের শেষ বলে প্রিঙ্গেলের স্ট্যাম্প উপড়ে দিয়েই জয় সুনিশ্চিত করেন ঢাকা এক্সপ্রেস।

এর আগে কিংসটাউনে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে যথারীতি শুরুতেই টপঅর্ডার হারায় বাংলাদেশ। শান্ত ও লিটনের ব্যাট থেকে আসে ১ রান করে। শুরুতেই দুই উইকেট হারালেও, তানজীদ তামিম ও সাকিব আল হাসান মিলে পাল্টা আক্রমণ করেন ডাচ বোলারদের ওপর। ২৬ বলে ৩৫ রান করে আউট হন জুনিয়র তামিম। তাওহীদ হৃদয় ৯ আর রিয়াদ ২৫ রান করে আউট হন। দেড় বছরেরও বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ফিফটির দেখা পান সাকিব। খেলেন ৪৬ বলে ৬৪ রানের অনবদ্য ইনিংস। নির্ধারিত ওভারে বাংলাদেশ পায় ১৫৯ রানের সংগ্রহ।

এমএসআরএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর