দুইপক্ষের চাপে বেশ বেকায়দায় পড়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। গত কয়েকদিন ধরেই পঞ্চগড়-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপি নেতা সারজিস আলমের কর্মী সমর্থকরা একে অপরের বিরুদ্ধে আরচণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
গত বুধবার সকালে সারজিসের অনুসারী ও জোটের কর্মী সমর্থকরা বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণ লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তাদের দাবি রিটার্নিং কর্মকর্তা শাপলা কলির ব্যানার ফেস্টুন সরালেও ধানের শীষের নিয়ম নীতি না মেনে স্থাপন করা ব্যানার ফেস্টুন সরাননি। এ দাবিতে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত ব্যবস্থা নিতে সময় বেধে দেন। নির্ধারিত সময়ে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় বিকেল ৫ টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন জোটের নেতাকর্মীরা।
রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে তার অপসারণ দাবিও করেন তারা। দীর্ঘ সময়ে সেখানে নামাজ আদায় করেন বিক্ষোভকারীরা। এমনকি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নিয়ে আপত্তিকর নানা স্লোগান ও গানও গাইতে দেখা যায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় আবারো কর্মসূচি ঘোষণা করে রাত ১০টায় ৫ ঘণ্টা পর অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে যায় সারজিসের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ৫ দফা দাবিও দিয়েছেন।
দাবিগুলো হলো; বিগত নির্বাচনগুলোতে যারা প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার ছিলো তাদের নাম এবার নির্বাচনে বাদ দিতে হবে, দলীয় পদধারী কোনো ব্যক্তি প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হতে পারবে না, যারা এর আগে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার ছিলো না বিশেষ করে মাদরাসা শিক্ষকদের সেখানে নিয়োগ করতে হবে, রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী তেঁতুলিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অপসারণ করতে হবে। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আরও পড়ুন:
পঞ্চগড় শহর জামায়াতের সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এ রিটার্নিং কর্মকর্তা আমাদের জোটের প্রার্থীর ব্যানার ফেস্টুন সরিয়ে দিলেও বিএনপি প্রার্থীর ব্যানার ফেস্টুন এখনো রয়ে গেছে। এছাড়া তিনি প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপন মিটিং করেছেন। পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই আমরা তার পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছি তারা আমাদের কাছে ১২ ঘণ্টা সময় চেয়েছেন। তাদের অনুরোধে আগামীকাল ১০টা পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। দাবি মানা না হলে ১০টার পরে আবারো আন্দোলন শুরু হবে।’
এদিকে সারজিসের আচরণবিধি লঙ্ঘন ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষপাতমূলক আচরণ করার অভিযোগ তুলে বিকেলে বিক্ষোভ করেছে বিএনপির প্রার্থী নওশাদ জমিরের কর্মী সমর্থকরা।
গত ২৪ জানুয়ারি বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে আচরণবিধি না মানায় কারণ দর্শানোর নোটিশ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, ‘তাদের যেসব ফেস্টুন নিয়ে আপত্তি আমরা সেগুলোর ছবি তুলে নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছিলাম। তারা এটিকে ব্যানার বলে অবহিত করেছে। পরে আমরা তা তাদের জানিয়ে দিয়েছি। কিন্তু তারা তা মানছে না। এছাড়া শহরের বিদ্যুৎ পোল, গাছ সরকারি স্থাপনায় স্থাপন করা ব্যানার ফেস্টুন আমরা অপসারণ করেছি। পক্ষপাতমুলক আচরণ নয় আমরা নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন যা সিদ্ধান্ত দিবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’





