আলাপে ইয়াসের খান চৌধুরী দেশের গণমাধ্যমের আধুনিকায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির প্রভাব এবং মূলধারার মিডিয়ার প্রতি জনমানুষের আস্থার জায়গাটি নিয়ে আলোকপাত করেন। প্রতিমন্ত্রী তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, মাধ্যম পরিবর্তন হলেও দৃশ্য মাধ্যমের আবেদন ও গুরুত্ব ফুরিয়ে যায়নি।
আলাপের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো—
তুষার আবদুল্লাহ: আপনি গণমাধ্যমের দায়িত্ব পেয়েছেন, আবার বিলেতেও গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রযুক্তিবিদ হিসেবে আপনার কাছে কী মনে হয়, টেলিভিশন কতদিন টিকবে? এখন তো টেলিভিশন, পত্রিকা, পোর্টাল—সবকিছুতেই টেলিভিশন আছে, তাই না?
ইয়াসের খান চৌধুরী: নিউ মিডিয়াতে বাংলাদেশ এখনো ‘ওইভাবে’ জড়িত হতে পারেনি। টেকনোলজি যেভাবে এগিয়ে গেছে, বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকা বা অন্যান্য দেশে যেভাবে মিডিয়া এগিয়েছে; বাংলাদেশকে আরও আধুনিকায়ন করতে হবে। আপনারা কিন্তু পারদর্শী, কিন্তু আপনাদের আরও ভালো প্রশিক্ষণ, উন্নত প্রযুক্তি এবং ভালো সরঞ্জাম দরকার। আমি মনে করি, এটা সম্ভব।
অবশ্যই সম্ভব। টেলিভিশন এমন একটি মাধ্যম, মানুষ এখনো দেখছে। আপনাদের টিআরপি, দর্শকও অনেক। তাই অনলাইন এসেছে বলেই মানুষ টেলিভিশন ছেড়ে দিয়েছে, এটা ঠিক না।
আরও পড়ুন:
তুষার আবদুল্লাহ: পর্দাটা ছোট হয়ে গেছে।
ইয়াসের খান চৌধুরী: পর্দাটা ছোট হয়ে গেছে, হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এখন আমাকে টেলিভিশনের রুমে গিয়ে বড় পর্দায় বসে দেখতে হচ্ছে না। আমি মোবাইলে, ল্যাপটপে দেখতে পারছি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, টেলিভিশন বন্ধ হয়ে যাবে বা কেউ দেখবে না।
তুষার আবদুল্লাহ: দৃশ্যমাধ্যম বন্ধ হচ্ছে না। টেলিভিশন বলতে আমরা যেটা বুঝি, সেই জায়গা থেকে আগের মতো শুধু টেলিভিশন নয়। এখন বাংলাদেশে পত্রিকা, টেলিভিশন, ওয়েব পোর্টাল—সবকিছুরই ডিজিটাল সংস্করণ আছে। সেই জায়গা থেকে বিনিয়োগের বিষয়টি যদি বলেন, এত বিনিয়োগ করে এই সনাতন ধারার দৃশ্য মাধ্যমের ভবিষ্যৎ কী?
ইয়াসের খান চৌধুরী: অনেক সুযোগ আছে। অনলাইনে গেলে আমি একটা সহজ উদাহরণ দিই। মানুষ কিন্তু দোকানে গিয়ে কাপড় কেনে, আবার অনলাইনেও কেনে। তাই বলে কি দোকান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? না। সুযোগ ও বিকল্প বাড়ছে, শুধু কেনাবেচার ধরন বদলাচ্ছে।
তুষার আবদুল্লাহ: ভোক্তার কাছে অপশন বা সমাহারটা বাড়ছে। সে বেছে নেবে।
ইয়াসের খান চৌধুরী: ঠিক তাই। অপশন বাড়ছে, কোথা থেকে কিনবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষ কিছুটা হলেও পুরোনো বা সনাতন মাধ্যমেই থাকে। এটা হারিয়ে যাওয়ার নয়।
তুষার আবদুল্লাহ: যেহেতু আপনার কাছে একটি মোবাইল আছে, আপনিও একজন সম্পাদক, রিপোর্টার—সবই। আবার সনাতন ধারার টেলিভিশনও আছে। দুইয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। কোনো ঘটনা ঘটলে টেলিভিশনও দেয়, আবার অনলাইনেও চলে আসে। সেখানে কে আগে খবর দিচ্ছে, কতটা সত্য দিচ্ছে—এই প্রতিযোগিতা চলছে।
ইয়াসের খান চৌধুরী: দিচ্ছে, কিন্তু দর্শক কতটা দেখছে বা বিশ্বাস করছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। অনলাইনে কেউ আগে দিলেই সেটা সত্য হয়ে যায় না।
তুষার আবদুল্লাহ: ভাইরাল হলেই যে সত্য—তা নয়।
ইয়াসের খান চৌধুরী: ভাইরালও সব সময় বড় পরিসরে হয় না। হয়তো ১০-১৫ হাজার, দুই লাখ। কিন্তু টেলিভিশনের দর্শক মিলিয়নস।
তুষার আবদুল্লাহ: মূলধারার গণমাধ্যম অনেক সময় কোনো ঘটনা নিয়ে দ্বিধায় থাকে, দেবে কী দেবে না। পরে যখন অনলাইনে বা ব্যক্তিগতভাবে খবর চলে আসে, তখন তারা দেয়।
ইয়াসের খান চৌধুরী: ঠিক, ঠিক। মিডিয়ার ক্ষমতা অনেক। আধুনিক যুগে মিডিয়ার অনেক দায়িত্ব আছে। মানুষ এখন মূলধারার মিডিয়াকে অকপটে বিশ্বাস করে, কারণ তারা সেই আস্থা অর্জন করেছে।





