ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তোড়জোড় রেলওয়ে কারখানাগুলোতে। প্রস্তুত নতুন কোচ ও ইঞ্জিন।
টিকিট চেকিং ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তৈরি হচ্ছে অস্থায়ী প্রবেশপথ। বিনা টিকিটের যাত্রী ঠেকাতে থাকবে কয়েক স্তরের চেকিং ব্যবস্থা।
ঈদ ঘিরে ইতোমধ্যে অবৈধ উচ্ছেদ ও পার্কিং সরানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা করা হয়েছে দ্বিগুণ। সেইসাথে র্যাব, এপিবিএনসহ থাকবে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ছাত্র প্রতিনিধি রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সেইসাথে অবৈধ পার্কিং সরানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে স্যারের নির্দেশে কাজ করছি।’
বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ যে ফোর্স আমাদের আছে, তার প্রায় সমান সংখ্যক ফোর্স আমরা এই ঈদ উপলক্ষ্যে পেয়ে যাচ্ছি।’
তবে অতিরিক্ত যাত্রী চাপে এসব ব্যবস্থা কতটা কার্যকরী থাকবে? আগাম টিকিট বিক্রির পরিসংখ্যান দেখলে আসন্ন যাত্রীচাপ অনেকটাই অনুমেয়। যেখানে ২৫ থেকে ৩০ মার্চের টিকিট পেতে দিনে সাড়ে ৪ কোটি থেকে সাড়ে ৭ কোটি বার চেষ্টা করেছে যাত্রীরা। আধাঘণ্টায় একসঙ্গে দেড় কোটিবার চেষ্টা দেখা যায় ২৭ মার্চের টিকিটের জন্য। আর ২৮ তারিখের টিকিটের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি।
অথচ ঢাকা থেকে লাখের উপর যাত্রী চাহিদার বিপরীতে আন্তঃনগরে সিট মাত্র ৩৩ হাজারের মতো। বাকি যাত্রীদের জন্য কী ব্যবস্থা রাখছে রেলওয়ে?
বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা স্টেশন ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যাত্রা শুরুর ২ ঘণ্টা আগে থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেয়া হবে।’
বাংলাদেশ রেলওয়েরেলওয়ে ঢাকা বিভাগের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আরিফ বলেন, ‘ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করা হবে যেন আমাদের এই যাত্রী চাপটা কিছুটা হলেও সামাল দেয়া সম্ভব হয়। টিটি ও টিসি পর্যাপ্ত সংখ্যক থাকার বিষয়টিও আমরা নিশ্চিত করবো।’
২৭ মার্চ থেকে সারাদেশে চলবে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন। রেলওয়ে সচিব বলছে, এবার সিসিটিভির ব্যবহার ও আলাদা মনিটরিং টিম কাজ করবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা টিম করে দিয়েছি, তারা ঈদের সময়টাতে নিয়মিত যাবে এবং পর্যবেক্ষণ করবে। যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যা যা প্রয়োজন সেগুলো তারা করবে। ঈদে ৪৪টি নতুন কোচ আমরা যুক্ত করছি।’