দেশে এখন

বিপৎসীমার ওপরে সুরমা-কুশিয়ারা-গোয়াইনের পানি, পানিবন্দি ৩ লাখ ৭১ হাজার মানুষ

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি প্রতিনিয়তই অবনতি হচ্ছে। অতিবৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢল চলমান থাকায় বাড়ছে সব নদ-নদীর পানি। এরই মধ্যে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, সারি ও গোয়াইন নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যা পরিস্থিতিতে অবনতির আশঙ্কায় জেলাবাসী। সিটি কর্পোরেশনসহ ১৩ উপজেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন সংখ্যা ৩ লাখ ৭১ হাজার ৫০৭ জন মানুষ। জেলার বরইকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত স্টেশন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮টিতে। সুরমার কানাইঘাট অংশে বিপৎসীমার ১৩৩ সেন্টিমিটার (সে.মি.) ওপরে রয়েছে পানি, সিলেট অংশে ২২ সে.মি.; সুনামগঞ্জ অংশে ৬৭ সে.মি.।

একই চিত্র কুশিয়ারার আমলশীদ ও মারকুলি অংশে; সারাঘাটের সারি গোয়াইন, লরেরগড়ের যাদুকাটা ও কমলাকান্দার সোমেশ্বরীতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।

গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের লালাখালে বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৩৩৩ মিলিমিটার (মি.মি.), জাফলংয়ে ৩২৭, পঞ্চগড়ে ১৯৯, কানাইঘাটে ১৯১, জকিগঞ্জে ১৮৮ মি.মি.। এছাড়া সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ১৫৯ মি.মি., কুড়িগ্রামের পাটেশ্বরীতে ১২৫, সিলেটের শেরপুরে ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

উল্লিখিত পরিস্থিতিতে নদীর পানি বাড়ায় হাওর উপচে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। ফলে পানিবন্দি মানুষের সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

নদ-নদী ও হাওরে পানির উচ্চতা বাড়ায় নতুন করে গ্রামীণ সড়ক ও উপজেলা সদরের সড়কগুলো প্লাবিত হচ্ছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষাকারী ৪টি সড়ক প্লাবিত হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

এছাড়া বসতবাড়িতে পানি ঢুকায় আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন পানিবন্দি লোকজন। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৭৫০টি পরিবার পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯৮ হাজার ৪০০ লোক এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

২৪ ঘণ্টার অতিবৃষ্টি ও সুরমা নদীর পানি বাড়তে থাকায় সিলেট নগরীর নদী তীরবর্তী এলাকার প্রধান সড়ক ও বাড়িঘরে এখনো হাঁটুর ওপরে পানি। অনেক নিচু এলাকার মানুষজন বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর সব নিচু এলাকা পানিতে নিমজ্জিত। বিশেষ করে শাহজালাল উপশহর প্রায় পুরোটাই পানির নিচে। অনেকের বাসার নিচতলায় গলা পর্যন্ত পানি। এছাড়া বাগবাড়ি, যতরপুর, মেন্দিবাগ, শামীমাবাদ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মদিনা মার্কেট, আখালিয়া ও মেজর টিলাসহ মহানগরের অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত হয়েছে।

এছাড়া মহানগরের মধ্যে অনেক প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি রয়েছে। এয়ারপোর্ট সড়ক, সিলেট-তামাবিল সড়ক, দক্ষিণ সুরমার বঙ্গবীর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান পানির নিচে।

এদিকে গোয়াইনঘাট ও কোম্পানিগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলার গ্রামীণ অনেক রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ২০৬ গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। প্রায় ১৫০০ হেক্টর কৃষি জমি নিমজ্জিত হয়ে গেছে। ১৯ হাজার ৭৫০টি পানিবন্দি পরিবারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯৮ হাজার ৪০০ জন। এরই মধ্যে ৫টি আশ্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এতে আশ্রয় নিয়েছেন ২৯৬ জন। পাশাপাশি তাদের ৮৬টি গবাদিপশুও আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে।'

সিলেটের বরইকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বন্যার পানিতে প্লাবিত। রক্ষায় সেনাবাহিনীর দল কাজ শুরু করেছে।

সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সিলেটের সব উপজেলায় মোট ৫৩৮টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৪৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

বন্যা পরিস্থিতির কারণে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সব কর্মকর্তা কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আজ সন্ধ্যা ৭টায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিসিসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর