এ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিলিয়ে মাঠে রয়েছে প্রায় ৯ লাখ সদস্য। এর মধ্যে মূল দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ ও আনসারের সাত লাখের বেশি সদস্য।
সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া ৫ জেলার ১৭টি আসনে বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে ৫ হাজার নৌবাহিনী ও ৩ হাজার ৫০০ বিমানবাহিনীর সদস্য। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিতে নিয়োজিত আছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।
নিরাপত্তাব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কারচুপি ও সহিংসতা ঠেকাতে ২৫ হাজার পুলিশ সদস্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা পরে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারিতে রয়েছে ৫০০-এর বেশি ড্রোন।
আরও পড়ুন:
নির্বাচনের ইতিহাসে ভোট একদিকে উৎসবের প্রতীক হলেও; অন্যদিকে সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগও রয়েছে। গত ১২টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে মাত্র ৪টিতে শেষ পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় ছিল; বাকি ৮টিতে ভোটের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, শুধু বাহিনী মোতায়েনই নয়— যেকোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিস।
এর আগে, গতকাল (বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জয়-পরাজয়কে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ হিসেবে মেনে নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সব প্রস্তুতি শেষে কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর।’
এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫০টি রাজনৈতিক দল। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট আসন সংখ্যা ২৯৯টি। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ওই আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন— দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৯৪৫ জন— দলীয় ১ হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৩ জন। সারা দেশে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি।
এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় বাড়তি প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। দিনশেষে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।





