Recent event

প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন? যেসব তথ্য জানা জরুরি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন
জাতীয় সংসদ নির্বাচন | ছবি: এখন টিভি
0

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (13th National Election) এবং একই সাথে দেশব্যাপী গণভোট (Referendum)। যারা এবার প্রথমবারের মতো ভোটার হয়েছেন বা প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন, তাদের জন্য ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে এবং ভোটদানের সঠিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের প্রস্তুতি ও ভোটদান পদ্ধতি
ধাপ (Steps) করণীয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য (To-Do & Info)
কেন্দ্র ও ক্রমিক নিশ্চিত করা ১০৫ নম্বরে 'PC ' লিখে পাঠিয়ে বা Smart Election অ্যাপ থেকে কেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জেনে নিন।
শনাক্তকরণ ও কালি পোলিং অফিসারকে এনআইডি (থাকলে) দেখান এবং আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ নিন।
ব্যালট সংগ্রহ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য আলাদা দুটি ব্যালট নিন। পেছনে প্রিজাইডিং অফিসারের সিল দেখে নিন।
সঠিকভাবে সিল দেওয়া গোপন কক্ষে পছন্দের প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে স্পষ্ট করে সিল দিন।
ব্যালট ভাঁজ ও ড্রপ সিলের কালি যেন ছড়িয়ে না যায় সেজন্য লম্বালম্বি ভাঁজ করে নির্দিষ্ট স্বচ্ছ বাক্সে ফেলুন।
নিষিদ্ধ বস্তু ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, দাহ্য পদার্থ বা কোনো অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করবেন না।

আরও পড়ুন:

ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানার উপায় (How to find Voter Number and Center)

ভোট দিতে যাওয়ার আগে আপনার ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর (Voter Serial Number) এবং সঠিক ভোটকেন্দ্রটি চিনে নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য সহজে জানতে নিচের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করতে পারেন:

স্মার্ট অ্যাপ (Smart App): নির্বাচন কমিশনের ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে এনআইডি নম্বর দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।

এসএমএস পদ্ধতি (SMS Method): মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC NID Number লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠালে ফিরতি মেসেজে ভোটকেন্দ্রের তথ্য (Polling Center Info) পাওয়া যাবে।

হটলাইন (Hotline): ১০৫ নম্বরে কল করে সরাসরি অপারেটরের মাধ্যমেও তথ্য জানা সম্ভব।

আরও পড়ুন:

ভোট দিতে কি এনআইডি কার্ড লাগবে? (Is NID mandatory for voting?)

সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) সাথে রাখা ভালো, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। ভোটার তালিকায় আপনার নাম ও ছবি থাকলে এবং পোলিং অফিসার আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলে আপনি ভোট দিতে পারবেন। তবে কেন্দ্রে কোনো প্রকার দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

ভোট দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি (Step-by-step Voting Process)

এবারের নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতিতে অর্থাৎ কাগজের ব্যালট (Paper Ballot) ও ব্যালট বাক্সে। ভোট দেওয়ার ধাপগুলো হলো:

  • ১. কেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার আপনার আঙুলে অমোচনীয় কালি (Indelible Ink) লাগিয়ে দেবেন।
  • ২. আপনি দুটি ব্যালট পেপার পাবেন (একটি সংসদ নির্বাচনের এবং অন্যটি গণভোটের)। ব্যালটের পেছনে প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর ও সিল আছে কি না দেখে নেবেন।
  • ৩. গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে সিল দেবেন।
  • ৪. ব্যালট ভাঁজ করার নিয়ম (Ballot Folding Rules): সিল মারার পর ব্যালটটি লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করুন যাতে সিলের কালি অন্য প্রতীকে না লাগে। অন্যথায় আপনার ভোটটি বাতিল ভোট (Invalid Vote) হিসেবে গণ্য হতে পারে।
  • ৫. ভাঁজ করা ব্যালটটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলুন।

আরও পড়ুন:

নির্বাচনী পরিসংখ্যান (Election Statistics)

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল এবং ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচন পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের দায়িত্বের গাইডলাইন
কর্মকর্তার পদবী (Designation) প্রধান কার্যাবলি ও দায়িত্ব (Core Responsibilities)
রিটার্নিং অফিসার (RO) পুরো জেলার নির্বাচন পরিচালনা, প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই এবং চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার উপজেলা পর্যায়ে রিটার্নিং অফিসারকে সহায়তা এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণের দায়িত্ব পালন করেন।
প্রিজাইডিং অফিসার একটি নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রের সার্বিক দায়িত্বে থাকেন এবং ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল প্রস্তুত করেন।
সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ভোটকেন্দ্রের বুথ পরিচালনা এবং ব্যালট পেপার ভোটারদের প্রদান করার কাজ করেন।
পোলিং অফিসার ভোটার তালিকা থেকে নাম ও আইডি কার্ড মিলিয়ে দেখা এবং আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেন।
নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রতিরোধ এবং তাৎক্ষণিক বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন:

ভোটকেন্দ্রে নিষিদ্ধ বস্তু এবং ভোট বাতিলের কারণসমূহ: এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলুন
বিষয় (Category) বর্জনীয় বা নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ (Prohibited Actions)
ভোটকেন্দ্রে নিষিদ্ধ বস্তু * মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা (গোপন কক্ষে ছবি তোলা নিষেধ)।

* দিয়াশলাই, লাইটার বা যেকোনো দাহ্য পদার্থ।

* আগ্নেয়াস্ত্র বা ধারালো কোনো বস্তু।

ভোট বাতিলের কারণ (ব্যালট) * ব্যালটের পেছনে প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর বা অফিশিয়াল সিল না থাকলে।

* একাধিক প্রতীকের ওপর সিল প্রদান করলে।

* ব্যালটের ওপর নিজের নাম, স্বাক্ষর বা কোনো চিহ্ন লিখে দিলে।

ভুল ভাঁজ জনিত সমস্যা * সিলের কালি শুকানোর আগে এমনভাবে ভাঁজ করা যাতে অন্য প্রতীকে কালি লেগে যায়।

* ভুলবশত সংসদ নির্বাচনের ব্যালট গণভোটের বাক্সে ফেললে।

আচরণবিধি লঙ্ঘন * ভোটকেন্দ্রের ভেতরে উচ্চস্বরে কথা বলা বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করা।

* গোপন কক্ষে সিল মারার সময় অন্য কাউকে প্রবেশ করানো।

আরও পড়ুন:

প্রথমবার ভোটদানকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: ভোট দিতে যাওয়ার সময় ভোটার স্লিপ কি বাধ্যতামূলক? (Is voter slip mandatory?)

উত্তর: না, ভোটার স্লিপ বাধ্যতামূলক নয়। তবে এটি সাথে থাকলে আপনার ভোটকেন্দ্র ও তালিকার ক্রমিক নম্বর দ্রুত খুঁজে পেতে সুবিধা হবে।

প্রশ্ন: জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ছাড়া কি ভোট দেওয়া যাবে? (Can I vote without NID?)

উত্তর: হ্যাঁ, যাবে। যদি আপনার নাম এবং ছবি ভোটকেন্দ্রের ভোটার তালিকায় থাকে, তবে পোলিং অফিসার আপনার পরিচয় নিশ্চিত করে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেবেন।

প্রশ্ন: আমার ভোটকেন্দ্র কোনটি তা কীভাবে জানব? (How to find my polling center?)

উত্তর: মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে PC NID Number লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠিয়ে দিন। ফিরতি এসএমএসে আপনার কেন্দ্র ও ভোটার নম্বর চলে আসবে।

প্রশ্ন: ভোট দেওয়ার সময়সীমা কতক্ষণ? (Voting time schedule)

উত্তর: সাধারণত সকাল ৮:০০ টা থেকে বিকেল ৪:০০ টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলে। তবে লাইনে ভোটার থাকলে সময় কিছুটা বাড়তে পারে।

প্রশ্ন: আঙুলে কালি দেওয়া হয় কেন? (Why is indelible ink used?)

উত্তর: একই ব্যক্তি যেন বারবার বা জাল ভোট দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই বাম হাতের নখে অমোচনীয় কালি দেওয়া হয়। এটি সহজে ওঠে না।

প্রশ্ন: ব্যালট পেপারের পেছনে কী চেক করতে হবে? (What to check on the back of ballot?)

উত্তর: ব্যালট হাতে পাওয়ার পর অবশ্যই দেখে নেবেন সেটির পেছনে প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর এবং নির্ধারিত অফিশিয়াল সিল আছে কি না। এগুলো না থাকলে ভোট বাতিল হবে।

প্রশ্ন: ভোট বাতিল হয় কেন? (Reasons for vote cancellation)

উত্তর: একাধিক প্রতীকে সিল দিলে, ব্যালটের ওপর নিজের নাম বা কোনো চিহ্ন লিখলে, কিংবা সিল এমনভাবে ভাঁজ করলে যা অন্য প্রতীকে লেগে যায়—তবে ভোট বাতিল হয়।

প্রশ্ন: ব্যালট পেপার ভাঁজ করার সঠিক নিয়ম কী? (Proper ballot folding rule)

উত্তর: সিল মারার পর ব্যালটটি লম্বালম্বিভাবে (Vertical) ভাঁজ করা নিরাপদ। এতে সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকের ঘরে লাগার সম্ভাবনা থাকে না।

প্রশ্ন: আমি কি ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল নিতে পারব? (Can I take mobile inside?)

উত্তর: মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করা গেলেও গোপন কক্ষের (Voting Booth) ভেতরে মোবাইল ব্যবহার বা ব্যালটের ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

প্রশ্ন: গণভোট (Referendum) এবং সংসদ নির্বাচনের ভোট কি আলাদা?

উত্তর: হ্যাঁ, এবার একই সাথে দুটি ভোট হতে পারে। আপনাকে দুটি আলাদা ব্যালট দেওয়া হবে এবং দুটি আলাদা ব্যালট বাক্সে সেগুলো ফেলতে হবে।

প্রশ্ন: স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ (Smart Election App) দিয়ে কি ভোট দেওয়া যায়?

উত্তর: না, এই অ্যাপটি কেবল আপনার কেন্দ্র ও প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য। ভোট দিতে আপনাকে সশরীরে কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালটে সিল দিতে হবে।

প্রশ্ন: গোপন কক্ষের ভেতরে কি কেউ আমার সাথে যেতে পারবে?

উত্তর: না, ভোটদানের গোপনীয়তা বজায় রাখা আপনার নাগরিক দায়িত্ব। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা কেবল একজন বিশ্বস্ত সহযোগীর সাহায্য নিতে পারেন।

প্রশ্ন: ভুল প্রতীকে সিল দিয়ে ফেললে কি নতুন ব্যালট পাওয়া যাবে?

উত্তর: না, একবার ব্যালট পেপারে সিল দিয়ে ফেললে সেটি পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই। তাই সিল দেওয়ার আগে প্রতীকটি ভালো করে দেখে নিন।

প্রশ্ন: ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা দেখলে কাকে জানাব?

উত্তর: কেন্দ্রে দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ বা ওই এলাকায় দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তাৎক্ষণিক বিষয়টি অবহিত করতে পারেন।

প্রশ্ন: প্রবাসীরা কি বিদেশ থেকে ভোট দিতে পারেন?

উত্তর: সাধারণত পোস্টাল ব্যালটের (Postal Ballot) মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকে, তবে এর জন্য নির্দিষ্ট সময়ের আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করতে হয়।


এসআর