‘বিগত দিনে শুধু রেলের ট্র্যাক করা হয়েছে লোকোমোটিভ ক্যারেজের কোনো উন্নয়ন হয়নি’

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ | ছবি: এখন টিভি
0

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, বিগত সময়ে শুধু রেলট্র্যাক করা হয়েছে, সেই পরিমাণ লোকোমোটিভ বা ক্যারেজের উন্নয়ন হয়নি। আমরা রেল ট্র্যাকের সঙ্গে লোকোমোটিভও সংগ্রহ করছি। এগুলো আন্তর্জাতিক টেন্ডার হয় এবং প্রক্রিয়াটা সমাধান হতে দুই-তিন বছর সময় লাগে। তবে যেসব মিটারগেজ লোকোমোটিভ অকেজো সেগুলোকে রিপেয়ারিং করে চালানোর চেষ্টা করছি এবং নতুন সংগ্রহের কাজও চলছে।

গতকাল (শুক্রবার, ৩ জুলাই) রাতে নেত্রকোণা বঢ় রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রী সেবার মান পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এরইমধ্যে রেলের উন্নয়নে কাজ শুরু করেছেন। আমরা লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহের কাজ করছি। আপনারা লক্ষ্য করবেন রেলে যেসব এলাকায় যানজট তৈরি হয়। সেই সব স্থানে আন্ডারপাস ও ওভারপাসের করার জন্য কাজ করছি। আমরা রেলে ইন্টারনেট সুবিধা বৃদ্ধি করছি। ঢাকা-চট্টগ্রাম কর্ডলাইনের মাধ্যমে দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘নেত্রকোণার মানুষের যে দাবিগুলি রয়েছে, এই দাবিগুলি পূরণ করার জন্য কিন্তু এরইমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে আমাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আজকে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরজমিনে নেত্রকোণা, মোহনগঞ্জ, বারহাট্টা এবং ময়মনসিংহ—সবগুলি স্টেশনে পরিদর্শন করেছেন। আমরা আসলে একবারে সব পারবো তা না, তবে আমরা আস্তে আস্তে সবকিছুর উন্নত করার চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন:

তিনি আরও বলেন, ‘নেত্রকোণা স্টেশনের ওয়েটিং রুম এরইমধ্যে রেলের ডিআরএম সাহেব পরিদর্শন করে গিয়েছেন, এই কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হবে। আর আন্তঃনগর হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি ক্যারেজ বাড়ানো বিষয়ে আমরা ভাবছি। বাকিগুলোতেও বাড়ানোর ব্যাপারে আমাদের চিন্তাভাবনা রয়েছে তবে লোকোমোটিভ ও ক্যারেজের স্বল্পতায় পারছি না। ভবিষ্যতে একটু সময় দিতে হবে, এটাও আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো।’

দেশের প্রতিটি জেলায় রেলের সম্প্রসারণ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার সারা দেশে রেলের সেবার মান বৃদ্ধি করছে। বর্তমানে ৪৯টি জেলায় রেল সংযোগ আছে। আমরা তেমনিভাবে ৬৪টি জেলায় রেল সংযোগ করতে চাই। আমাদের কিছু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে হচ্ছে। সক্ষমতা বাড়লে সেবার মানও বাড়বে। তবে সেটা কবে বা কখন হবে এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। আমরা সারা বাংলাদেশে যাত্রীসেবা বৃদ্ধি করতে চাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘এরইমধ্যে নেত্রকোণা সদর আসনের এমপি সাহেব বিভিন্ন বিষয়ে আমাদেরকে ডিও দিয়েছেন। আজকে এখানে আমাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় সিনিয়র নেতা বাবর ভাই আছেন, যিনি একসময় এই এলাকার রেলের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। মূল কথা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যাত্রীসেবা বৃদ্ধি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করছেন, আমরাও কাজ করছি।’

কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন জারিয়া পর্যন্ত বর্ধিত করার হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দাবি-দাওয়া তো সবারই আছে। আপনারা যখন কোনো দাবি করবেন। আমরা মাঠ পর্যায়ে সেটার ফিজিবিলিটি স্টাডি করে দেখবো, সেটির আসলে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা আছে। সারা দেশে যে দাবিগুলি আছে, কোনটার পর কোনটা আমরা করবো তা পর্যালোচনা করি এবং বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন:

জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ অগ্রগতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডেপুটি স্পিকার সাহেব জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রেললাইনটা স্থাপন জন্য আবেদন করেছেন। আমিসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেটি পরিদর্শন করেছি। এটি এখন ফিজিবিলিটি স্টাডি করছি। আমরা যদি দেখি যে এটা জনগণের জন্য অনেক বেশি উপকারী ও যাত্রীসেবার জন্য দরকার। তখন আমরা এটা নিয়ে কাজ করবো। আমরা এমন কিছু করতে চাই না যেটা মানুষের অপচয় হয়।’

রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনকালে রেল প্রতিমন্ত্রী সঙ্গে ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোণা ৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা।

এর আগে গেল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিনব্যাপী নেত্রকোণার মদন মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুর বিভিন্ন হাওর এলাকা পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রীরা। এসময় হাওরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের নানা দিক নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করেন তারা।

এসএস