ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলের কাছে অবস্থিত আতঙ্কের এক বিস্তৃত এলাকার নাম মোহাম্মদপুর। পশ্চিমে বছিলা এবং বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত যার ভৌগোলিক সীমানা।
রাস্তা ঘাটে দিনরাত ছিনতাই, খুন ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের আধিপত্যের জন্য মোহাম্মদপুরসহ আশপাশের অন্তত ৮-১০টি এলাকা এখন অপরাধের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
এখানে অন্ধকার পথে তৈরি হয়েছে গ্যাং সহিংসতা, সহজলভ্য অস্ত্র, যেখানে তুচ্ছ ঘটনায় একে অপরের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে নির্মমভাবে। এমন নানা কারণে নান্দনিক নামের বাড়ি গুলোর অসংখ্য ফ্ল্যাট ফাঁকা পড়ে রয়েছে।
বাড়িওয়ালাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখন আমার বাসায় তিনটা ফ্ল্যাট খালি। পাশের বাড়িতে পাঁচটা ফ্ল্যাট খালি।’
অন্য একজন বলেন, ‘আমি অলরেডি পার্টি দেখাচ্ছি, বাড়ি বিক্রি করে চলে যাবো। এই পরিবেশে থাকা তো সম্ভব না।’
আরও পড়ুন:
বসবাসকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘অবাক হই, যে এখন বাসায় যে টিউটর আসবে, টিচার আসবে; যখনই শুনে যে বুদ্ধিজীবী তখনই আর ও টিচাররা বলে, না না ওদিকে যাব না। ইমন নামে যে ছেলেটা মারা গেল, মেরে ফেললো, এর পর থেকে আমার ফ্ল্যাটগুলো রাতারাতি খালি হয়ে গেলো।’
ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার পরে বেচাকেনায় ভাঁটা পড়েছে তাদের। স্থানীয়রা জানান, মোহাম্মদপুরের বিহারি ক্যাম্পগুলোতে স্কুল বিমুখী হয়ে পড়েছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীরা।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এই দোকানে আমাদের অর্ডার হতো ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। এখন অর্ডার দেয় দুই হাজার, তিন হাজার টাকা। কারণ এদের যে সেল, আগে যেটা সেল ছিল, এই সেল এখন আর হয় না।’
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রাউড সোর্সড অনলাইন ডাটাবেস সেন্টার এনইউএমবিইও-২০২৬ এ প্রকাশিত ক্রাইম ইনডেক্সের তথ্য বলছে, অপরাধের সূচক বিবেচনায় দক্ষিণ আফ্রিকার পিটারমারিটজবার্গ ৮২.৮ স্কোর নিয়ে তালিকায় সবার উপরে রয়েছে। সেখানে ৬২.২ স্কোর নিয়ে ঢাকার অবস্থান ৫৯ এ।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা জানান, পাল্টেছে অপরাধের ধরন। তাই প্রতিকারে নতুন ভাবনা প্রয়োজন।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘ছোট অপরাধেও আমরা দেখি যে, এই ধরনের মারণাস্ত্রগুলো ব্যবহার হচ্ছে। কোনো অপরাধী যাতে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় না পায়। আমরা এরইমধ্যে দেখেছি অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বা অপরাধীর কিন্তু নিজেরই রাজনৈতিক পরিচয় আছে।’
আর ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করা হচ্ছে। অপরাধের বিপরীতে সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভূমির দাম, এইগুলো ঠিকমতো ম্যানেজমেন্ট নাই। এক গ্রুপ দখল করে, আরেক গ্রুপ— আরেক গ্রুপকে দিয়ে দখল করে। আধিপত্যবাদ বা মাস্তানদের একটা ডিমান্ড আছে। এই ডিমান্ডটা যদি কমে যায়, তখন ক্রাইমটা আরও কমে যাবে।’
চলতি বছরের মে মাসে তেজগাঁও বিভাগের আদাবর, শেরে বাংলা নগর থানাসহ মোট ছয়টি পুলিশ স্টেশনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে মোহাম্মদপুরে। নথি ঘেঁটে দেখা গেছে ছয় থানায় দায়ের করা মামলার সংখ্যা ২০৪টি, যা আগের মাসের চেয়ে অনেক বেশি।





