র‍্যাব থাকছে না আগের রূপে, বদলাতে পারে নামও: তথ্য উপদেষ্টা

ড. জাহেদ উর রহমান
ড. জাহেদ উর রহমান | ছবি: এখন টিভি
0

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) আর আগের ফর্মে থাকছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, এই বাহিনীর নামও সম্ভবত পাল্টে যাচ্ছে। আজ (মঙ্গলবার, ১৯ মে) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের তিন মাসের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন উপস্থিত ছিলেন।

র‍্যাবের আমূল সংস্কার ও নতুন আইন

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাব বিলুপ্তির দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘র‍্যাব এক অর্থে আগের মতো করে থাকছে না। গতকালই (সোমবার) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, র‍্যাবের জন্য নতুন একটি আইন হবে। সেখানে নাম পরিবর্তনের মতো অপশনও রয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই আইনটি করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।’

রাষ্ট্রে একটি ‘এলিট ফোর্স’ থাকার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি এলিট ফোর্স থাকবে, তবে সেটি র‍্যাব নামে নাকি ভিন্ন নামে হবে এবং তার কার্যাবলি কী হবে, তা বিস্তারিত আইনের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করা হবে।’

আরও পড়ুন:

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও অপসাংবাদিকতা

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভিন্ন মামলা নিয়েও আলোচনা হয়। ড. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উস্কানির বিষয় থাকলেও রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে চায় যে প্রকৃত অপরাধীর সঠিক বিচার হবে। যদি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে বা হয়রানিমূলক মামলা হয়ে থাকে, তবে সেটি নিয়ে সরকার কথা বলছে। আমরা শত্রু-মিত্র সবার ক্ষেত্রেই ইনসাফ কায়েম করতে চাই।’

এসময় তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘অনেক সম্পাদকই স্বীকার করেছেন যে অপসাংবাদিকতার কারণে দেশে বিভিন্ন সময় অরাজকতা তৈরি হয়েছে। তবে বর্তমানে অপসাংবাদিকতাকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো নেই।’ তিনি জানান, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের পর প্রচলিত আইনের সীমাবদ্ধতা দূর করে এসব বিষয়কে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

আরও পড়ুন:

‘শেখ হাসিনার প্রতিও ইনসাফ করা হবে’

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে আমরা ক্ষমতা থেকে সরিয়েছি কারণ তিনি ইনসাফ করেননি। কিন্তু নতুন বাংলাদেশের প্রধান উদ্দেশ্য হলো, শত্রুর প্রতিও ইনসাফ করা। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরত আসেন, তবে তার সঙ্গে কোনো ‘‘এক্সট্রা-জুডিশিয়াল’’ কিছু করা হবে না।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘তাকে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় যদি তিনি মুক্তি পান, তবে আমরা তা মানবো। আর যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এটাই ইনসাফ।’

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ বিষয়ে বলেন, ‘যেকোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী কি না তা প্রমাণের জন্য রাষ্ট্র তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার সুযোগ দেবে। পলাতক সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক; সবার ক্ষেত্রে এই ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি অনুসরণ করা হবে।’

এনএইচ