আজ (সোমবার, ২০ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালর সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
যদিও হান্নান মাসউদের ৭১ বিধির নোটিশটি সংসদে গৃহীত হয়নি, তবে ডেপুটি স্পিকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।
বক্তব্যে হান্নান মাসউদ বলেন, তিনি একটি দুর্গম দ্বীপাঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে ভূমিদস্যু ও জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। নির্বাচনের আগে ও পরে অন্তত পাঁচবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
তিনি জানান, তার জন্য মসজিদে দোয়া করায় এক ইমামের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, যিনি গত দেড় মাস ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমাকে অস্ত্র হাতে কোপাতে আসার ভিডিও ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়া হচ্ছে। ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং এলাকায় প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য হয়েও যদি আমি ও আমার নেতাকর্মীরা নিরাপদ না থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী?’
হান্নান মাসউদ বলেন, ‘তার গাড়িতে এখনও হামলার কোপের দাগ রয়েছে। এমনকি বিটিভির এক সাংবাদিককে কুপিয়েছে—এমন চিহ্নিত আসামিরাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
তিনি ঘটনার সংসদীয় তদন্ত এবং নিজের ও কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা ও হুমকি কোনোভাবেই কাম্য নয়। যদিও কার্যপ্রণালী বিধির কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে নোটিশ গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি, তবু বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।’
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের উত্থাপিত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যদি হামলার ঘটনাগুলো সত্য হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকার অপরাধীদের ছাড় দেবে না।’
তিনি হান্নান মাসউদকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা বা জিডি করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু হান্নান মাসউদ নন, সংসদের যেকোনো সদস্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় থানাকে জানাতে হবে। সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে।’





