টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কী? (Definition of Technocrat Minister)
সহজ কথায়, যারা সরাসরি জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য (Member of Parliament) হিসেবে নির্বাচিত হননি, কিন্তু বিশেষ দক্ষতা, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বা রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কারণে মন্ত্রিসভায় স্থান পান, তাদেরই ‘টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী’ বলা হয়।
আরও পড়ুন:
সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট (Constitutional Context)
বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ (Article 56(2) of the Constitution) অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার অনধিক এক-দশমাংশ (One-tenth) সদস্যকে সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দিতে পারেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাঁদের অবশ্যই সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। অর্থাৎ, তিনি যদি নির্বাচনে দাঁড়াতেন তবে তাঁর কোনো অযোগ্যতা থাকত না।
কেন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়? (Why Are They Needed?)
একটি সরকারকে দক্ষভাবে পরিচালনার জন্য কিছু বিশেষ কারণে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়:
১. বিশেষজ্ঞ জ্ঞান (Expertise): অনেক সময় কোনো নির্দিষ্ট সেক্টরে (যেমন: তথ্যপ্রযুক্তি, পররাষ্ট্র বা অর্থনীতি) অত্যন্ত দক্ষ ব্যক্তির প্রয়োজন হয়, যিনি হয়তো সরাসরি সক্রিয় রাজনীতিতে বা নির্বাচনে অংশ নেননি।
২. মেধাবীদের গুরুত্ব (Promoting Talent): দলের ভেতরে থাকা উচ্চশিক্ষিত বা বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
৩. রাজনৈতিক ভারসাম্য (Political Balance): দলের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা যারা কোনো কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি বা পরাজিত হয়েছেন, তাদের দক্ষতা কাজে লাগাতে এই কোটা ব্যবহার করা হয়।
আরও পড়ুন:
বৈশিষ্ট্য (Key Features)
বিস্তারিত বিবরণ (Details)
কোটা বা সংখ্যা
মোট মন্ত্রিসভার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ (১/১০)।
যোগ্যতা
যিনি সরাসরি এমপি হওয়ার সকল যোগ্যতা সম্পন্ন।
পদত্যাগ নিয়ম
নির্বাচনের ৯৩ দিন আগে পদত্যাগ করতে হয়।
ভোট প্রদানের ক্ষমতা
সংসদে কথা বলতে পারেন, তবে আইন প্রণয়নে ভোট দিতে পারেন না।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী সংক্রান্ত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (Technocrat Minister Q&A)
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী (Technocrat Minister) কাকে বলা হয়?
উত্তর: যারা সরাসরি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হননি, কিন্তু বিশেষ দক্ষতা বা যোগ্যতার কারণে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান, তাদের টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বলা হয়।
প্রশ্ন: সংসদ সদস্য না হয়েও কীভাবে একজন মন্ত্রী হতে পারেন?
উত্তর: বাংলাদেশ সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভায় নির্দিষ্ট সংখ্যক অনির্বাচিত ব্যক্তিকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা ভোগ করেন।
প্রশ্ন: মন্ত্রিসভায় কত শতাংশ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী থাকতে পারেন?
উত্তর: মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যার অনধিক এক-দশমাংশ (১০ শতাংশ) সদস্য টেকনোক্র্যাট কোটায় নিয়োগ পেতে পারেন।
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হওয়ার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা কী?
উত্তর: তাকে অবশ্যই এমন একজন ব্যক্তি হতে হবে যার সংসদ সদস্য (Member of Parliament) হওয়ার সব ধরনের যোগ্যতা রয়েছে।
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা কি সংসদে ভোট দিতে পারেন?
উত্তর: না। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা সংসদে বক্তব্য রাখতে পারেন এবং সরকারি কাজে অংশ নিতে পারেন, কিন্তু কোনো আইন প্রণয়ন বা সংসদীয় ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।
প্রশ্ন: তারা কি সাধারণ মন্ত্রীদের মতো সমান বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পান?
উত্তর: হ্যাঁ। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান বেতন, ভাতা, গাড়ি, বাড়ি এবং অন্যান্য লজিস্টিক সুবিধা ভোগ করেন।
প্রশ্ন: কেন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়?
উত্তর: সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান (যেমন: অর্থনীতি, প্রযুক্তি বা কূটনীতি) সম্পন্ন ব্যক্তিদের সরাসরি যুক্ত করে প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়াতে এই নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা কি নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করতে হয়?
উত্তর: হ্যাঁ। সাধারণত জাতীয় সংসদ ভেঙে যাওয়ার অন্তত ৯০ দিন আগে বা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সময় টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে হয়।
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীরা কার কাছে জবাবদিহি করেন?
উত্তর: তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং সামগ্রিকভাবে মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকে।
প্রশ্ন: প্রধানমন্ত্রীর কি টেকনোক্র্যাট কোটা ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক?
উত্তর: না, এটি বাধ্যতামূলক নয়। এটি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Power)।
প্রশ্ন: কোনো বিদেশি নাগরিক কি টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হতে পারবেন?
উত্তর: না। বাংলাদেশের নাগরিক নয় এমন কেউ মন্ত্রী হতে পারবেন না, কারণ তার সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা নেই।
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট কোটায় কি প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ। পূর্ণ মন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী (State Minister) বা উপমন্ত্রী (Deputy Minister) পদেও টেকনোক্র্যাট কোটায় নিয়োগ দেওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগের সাংবিধানিক অনুচ্ছেদ কোনটি?
উত্তর: বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগের দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের ৫৬(২) অনুচ্ছেদ (Article 56(2) of the Constitution)।
প্রশ্ন: টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের শপথ পাঠ করান কে?
উত্তর: সাধারণ মন্ত্রীদের মতো টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদেরও শপথ বাক্য পাঠ করান মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
প্রশ্ন: এবারের (২০২৬) মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট কোটায় কাদের নাম আলোচনায় আছে?
উত্তর: বর্তমানে অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ড. মাহাদী আমিন এবং হুমায়ুন কবিরের মতো ব্যক্তিদের নাম টেকনোক্র্যাট কোটায় গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।





