Recent event

গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ের পর নতুন বাংলাদেশ: কীভাবে চলবে গণপরিষদ ও জাতীয় সংসদ?

গণপরিষদ ও জাতীয় সংসদ পার্থক্য
গণপরিষদ ও জাতীয় সংসদ পার্থক্য | ছবি: এখন টিভি
0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে (Constitutional Referendum) ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মোট ৬১.০৩% ভোটার উপস্থিতিতে ৬৮.৫৯% নাগরিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ (July National Charter) বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই রায়ের ফলে নবনির্বাচিত সংসদ এখন একই সাথে সরকার পরিচালনা এবং সংবিধান সংস্কারের (Constitutional Reform) দ্বৈত দায়িত্ব পালন করবে।

বিবরণ (Description) সংখ্যা/শতকরা (Stat)
মোট ভোটার (Total Voters) ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৬ জন
ভোট প্রদানের হার (Voter Turnout) ৬১.০৩% (৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন)
'হ্যাঁ' ভোট (Yes Vote) ৬৮.৫৯% (৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ জন)
'না' ভোট (No Vote) ৩১.৪১% (২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন)
বাতিলকৃত ভোট (Invalid Votes) ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি

আরও পড়ুন:

গণপরিষদ ও সংসদের দ্বৈত ভূমিকা (Constituent Assembly & Parliament)

গণভোটে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (Members of Parliament) প্রথম বৈঠকের দিন থেকেই ‘সংবিধান সংস্কার কাউন্সিল’ (Constitutional Reform Council) বা গণপরিষদ হিসেবে কাজ শুরু করবেন।

সময়সীমা: আগামী ১৮০ কর্মদিবসের (180 Working Days) মধ্যে এই কাউন্সিলকে জুলাই সনদের ৪৮ দফা সংস্কারের ভিত্তিতে নতুন সংবিধানের খসড়া চূড়ান্ত করতে হবে।

সমন্বয়: একদিকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন, অন্যদিকে সংসদ সদস্যরা বিশেষ কমিটির মাধ্যমে মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights), বিচার বিভাগ ও নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার সম্পন্ন করবেন।

আরও পড়ুন:

জুলাই সনদের মূল সংস্কারসমূহ (Key Reforms of July Charter)

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি যে পরিবর্তনগুলোতে সম্মতি দিয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

১. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ (Bicameral Parliament): ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষের। যেখানে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ থাকবে।

২. মেয়াদ সীমাবদ্ধতা (Term Limit): কোনো ব্যক্তি এক জীবনে দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী (Max Two Terms for PM) থাকতে পারবেন না।

৩. ক্ষমতার ভারসাম্য (Checks and Balances): রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

৪. তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government): নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা এবং একটি শক্তিশালী স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন।

আরও পড়ুন:

রূপান্তর পর্ব ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা (Transition Phase)

এই রূপান্তরকালীন সময়ে (Transition Period) প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিদ্যমান আইনগুলো কার্যকর থাকবে। তবে গণপরিষদ কর্তৃক নতুন সংবিধান পাস হওয়ার সাথে সাথেই সংসদের ‘দ্বৈত ভূমিকা’ শেষ হবে এবং বাংলাদেশ একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে। আন্তর্জাতিক মহল ও বিনিয়োগকারীরাও এই সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

বৈশিষ্ট্য জাতীয় সংসদ (National Parliament) গণপরিষদ (Constituent Assembly)
মূল লক্ষ্য রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বিদ্যমান আইনে নতুন আইন সংযোজন বা পরিবর্তন। রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো বা নতুন সংবিধান প্রণয়ন/আমূল সংস্কার।
কার্যকাল নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য (সাধারণত ৪ বা ৫ বছর)। নির্দিষ্ট কাজ (সংবিধান সংস্কার) শেষ হওয়া পর্যন্ত (১৮০ কর্মদিবস)।
ক্ষমতার উৎস বিদ্যমান সংবিধান ও সাধারণ নির্বাচন। গণভোটের মাধ্যমে প্রাপ্ত সরাসরি জনম্যান্ডেট।
জবাবদিহিতা নির্বাহী বিভাগ (মন্ত্রিসভা) সংসদের কাছে দায়বদ্ধ। সরাসরি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদের প্রতি দায়বদ্ধ।
প্রধান কাজ বাজেট পাস, দৈনন্দিন আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থ রক্ষা। রাষ্ট্রের রূপান্তর (যেমন: দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ) নিশ্চিত করা।
অধিবেশন স্থল জাতীয় সংসদ ভবনের মূল হল। একই সংসদ ভবনে তবে ভিন্ন কার্যসূচির অধীনে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন – ২০২৬ লাইভ আপডেট দেখতে ,ক্লিক করুন।

আরও পড়ুন:

এসআর