ওশেনিয়া
বিদেশে এখন
ইতিহাসের ভয়াবহতম বন্যার কবলে অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে নজিরবিহীন বৃষ্টি-বন্যা। শক্তিশালী মৌসুমি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে একদিনের বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ সংলগ্ন উপকূলের কয়েকটি পর্যটন নগরী।

মৌসুমী সাইক্লোন জ্যাস্পারের প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রবাল প্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের কাছে অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপূর্ব উপকূল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি পর্যটন নগরী।

স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল পর্যন্ত ৪০ ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। যা অঞ্চলটিতে ডিসেম্বরের গড় বৃষ্টির তুলনায় তিন গুণের বেশি। অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ইতিহাসের এমন বৃষ্টি-বন্যা নজিরবিহীন।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড প্রিমিয়ার স্টিভেন মাইলস বলেন, 'কুইন্সল্যান্ডের উত্তর প্রান্তে রাতভর রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টির সাক্ষী হয়েছি আমরা। রীতিমতো ঢল নেমেছে। বৃষ্টির মাত্রা এবার সীমা ছাড়িয়েছে।'

গেল বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার উত্তরপূর্ব উপকূলে ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১৩০ মাইল গতিতে আঘাত হানে সাইক্লোন জ্যাস্পার। রাস্তায় রাস্তায় শেকড় উপড়ে পড়ে বিপুলসংখ্যক গাছপালা, সড়ক-মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় অর্ধলাখ মানুষ। ঝড়ের পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও থামেনি বৃষ্টি।

স্থানীয় একজন বলেন, 'বেশ অবাক লাগছে। এমন কিছু হবে তা আশা করিনি। এর আগে এমন বন্যাও দেখিনি কখনো।'

বানের জলে ভেসে আসা কুমির সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ইংহ্যামে স্রোতে উত্তাল নদীতে রূপ নেয়া শহরের রাস্তায়। কাছ থেকে কুমির দেখার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য।

একজন বাসিন্দা জানান, 'এখানেই জন্ম আমার, এখানেই বেড়ে উঠেছি। এত কাছে থেকে এরকম দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা আগে কখনো হয়নি।'

অবিরাম বৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের প্রবেশপথ খ্যাত কেঞ্জসহ কয়েকটি শহর। পানি ওঠায় সোমবার কেঞ্জ বিমানবন্দরে বাতিল করা হয় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব রুটের ফ্লাইটের ওঠানামা।

বিমানের যাত্রীরা বলেন, 'চলতি সপ্তাহে কেঞ্জে ছিলাম। বিকেলে ফিরতি ফ্লাইট ছিল আমার। বিমানবন্দরে তো পৌঁছেছি। কিন্তু এরপর বিমান সব বাতিল করা হয়েছে। এখন আবার কেঞ্জেই ফিরছি।'

কিছু অঞ্চলে আরও বৃষ্টি হওয়ার আভাস দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া বিভাগ। জানিয়েছে, ছয় ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিভিন্ন নদীতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ১৯৭৭ সালের রেকর্ড ভেঙে দেবে বলে রয়েছে শঙ্কা, জারি করা হয়েছে গুরুতর বন্যা সতর্কতা।

২৪ ঘণ্টায় ৮২০ মিলিমিটার বৃষ্টির পর ডাইনট্রি নদীতে পানির উচ্চতা দুই মিটার বেড়েছে আগেই। চলমান দুর্যোগে আর্থিক ক্ষতি ১০০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা স্থানীয় প্রশাসনের।

এমএসআরএস
আরও পড়ুন: