যুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার কঠোর জবাব দিতে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট হরমুজ প্রণালি হয়ে ওঠে ইরানের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু। হুমকি উপেক্ষা করে ওয়াশিংটন-তেল আবিব সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ পারাপারের চেষ্টা করলেই আঘাত হানছে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র। এতে অপরিশোধিত তেলের দর একশো ডলারের ওপর ওঠানামা করায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে দেখা দেয় অস্থিরতা।
এ অবস্থায় বৈশ্বিকভাবে কিছুটা চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার কারণে রাশিয়া তেলে দেয়া নিষেধাজ্ঞা একমাসের জন্য শিথিল করতেও বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মাইন স্থাপনকারী নৌযান ধ্বংস করা, বেশ কয়েকটি তেল ট্যাঙ্কার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলাসহ ধ্বংসাত্মক হামলা অব্যাহত রেখেও ইরানকে দমাতে পারছে না ওয়াশিংটন। অর্থাৎ তেহরানের হাত থেকে হরমুজ প্রণালী মুক্ত করার সব মার্কিন প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
এবার ইরানের জ্বালানি খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে হামলা চালালো মার্কিন সেনারা। এই দ্বীপটি ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানির প্রধান টার্মিনাল হিসেবে পরিচিত। তবে ইরানের মুকুটের মণি হিসেবে পরিচিত খারগ দ্বীপের প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু পুরোপুরি ধ্বংসের দাবি করছেন ট্রাম্প। আর হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হস্তক্ষেপ করলে দ্বীপের তেল অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সংশ্লিষ্ট সব তেল কোম্পানির জ্বালানি অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে ছাইয়ের স্তূপে পরিণত করার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমানোর জন্য হরমুজ প্রণালির ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক প্রচেষ্টায় হিতের বিপরীত হওয়ার শঙ্কা প্রকট হচ্ছে। আর ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।





