Recent event

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র টানাপোড়েন; ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে কোনো ছাড় নয় তেহরানের

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র টানাপোড়েন
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র টানাপোড়েন | ছবি: এখন টিভি
0

ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী কখনোই বন্ধ করবে না ইরান। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এদিকে মাসকাটে ইরানের সঙ্গে আলোচনা অমীমাংসিত থাকার পর আরব সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পরিদর্শন করেছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এতে যুদ্ধের শঙ্কা বিশ্লেষকদের।

ওমানের মাসকাটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের আলোচনায়ও তেহরান-ওয়াশিংটন উত্তেজনার পারদ কমেনি। কারণ ইরান কখনোই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করবে না বলে জানিয়েছেন আরাঘচি। এবিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ নেই বলেও বার্তা দিলো ইরান। এমনকি পারমাণবিক অস্ত্রের ইস্যু ছাড়াও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একেবারে বন্ধের বিষয়েও আলোচনা করতে রাজি না পেজেশকিয়ান প্রশাসন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আমরা কেবল পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছিলাম, যা গতকাল হয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামানোর দাবি মেনে নেয়া সম্ভব না। আমাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত থাকবে। বোমা হামলা চালিয়েও তারা এটি ধ্বংস করতে পারেনি। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের বিষয়ে কখনোই আলোচনার সুযোগ নেই। এটি আমাদের প্রতিরক্ষামূলক অধিকারের বিষয়।’

এ অবস্থায় পারমাণবিক ইস্যুতে মাসকাটে প্রথম দফার আলোচনা শেষ করেই শনিবার আরব সাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী পরিদর্শন করেছেন স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার। ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তেহরানের ‘খুব কঠিন’ পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে আগেই হুমকি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। এ অবস্থায় ওয়াশিংটন প্রতিনিধিদের মার্কিন রণতরী পরিদর্শন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন:

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক এলিজাবেথ সুরকভ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাই বিশ্বাস করেন যে, তিনি ইরানে আক্রমণ করতে পারেন। কারণ আলোচনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। ইরান সরকার যে প্রস্তাব দিতে ইচ্ছুক তা যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নয়।’

বিশ্লেষকদের এমন সতর্কবার্তা থাকলেও মার্কিন হুমকিতে ভীত নয় বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। প্রয়োজনে তেহরানও যুদ্ধের জন্য সর্বদা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আরও বলেন, ‘যুদ্ধের শঙ্কা থাকবেই এবং আমরা এর জন্য প্রস্তুত। আমরা আশা করি আমেরিকা কূটনীতিই বেছে নেবে। যদি আমেরিকা আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে, তাহলে আমাদের তার ভূখণ্ডে আক্রমণ করার ক্ষমতা নেই। তবে এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করা হবে। এটি পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের দিকে টেনে আনবে।’

অস্ত্র সক্ষমতার কারণেই মার্কিন হামলা হুমকি থেকে ইরান এখনও নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরজন্যই তেহরানকে সামরিক শক্তি কমাতে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধের জন্য ওঠে পরে লেগেছে ওয়াশিংটন। ফলে তেহরানও পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ইস্যুতে আলোচনায় রাজি হলেও অন্য ইস্যুগুলো টেবিলে ওঠতে দিচ্ছে না।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ মারান্দি বলেন, ‘ইরানের কাছে যে পরিমাণ অস্ত্র আছে তা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ পারস্য উপসাগরের পাশে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং বৈচিত্র্যময়। ভাণ্ডারে স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, মাঝারি-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, অসংখ্য ড্রোন ও সাবমেরিন আছে। যার আশপাশেই মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। ফলে এগুলো সহজেই ধ্বংস করা যাবে।’

এমন উত্তেজনার মধ্যে খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে ইরান। তবে তারিখ এখনও ঠিক হয়নি।

জেআর