গেল বছরের নভেম্বরে ইসলামাবাদ ডিসট্রিক্ট আদালতের বাইরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ক্ষত সেরে ওঠার আগেই রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা। দুটি ক্ষেত্রেই হামলার দায় স্বীকার করেছে ২০১৯ সাল থেকে পাকিস্তানে তৎপর হওয়া ইসলামিক স্টেট।
একদিকে বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিরোধী অভিযান অন্যদিকে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সফর। এমন প্রেক্ষাপটে জুমার নামাজ চলাকালে মসজিদে বিস্ফোরণ বড় ধরণের চ্যালেঞ্জে ফেলে শেহবাজ শরীফ প্রশাসনকে। হামলাকারীদের ধরতে ভেতরে ভেতরে অভিযানের জোর প্রস্তুতি নেয় ইসলামাবাদ।
শুক্রবার রাতভর নওশেরা এবং পেশোয়ারে অভিযান চালিয়ে ইসলামাবাদের ইমামবাড়ায় আত্মঘাতী হামলার প্রধান মাস্টারমাইন্ড ও তার তিন সহযোগীকে আটকের দাবি করেছে পাকিস্তান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সংবাদ সম্মেলনে জানান, কাউন্টার টেরোরিজম ডিপার্টমেন্ট, সিটিডি এবং খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের যৌথ অভিযানে হামলার পরিকল্পনাকারীদের আটক করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারী একজন আফগান নাগরিক।
পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর পরই পেশোয়ার এবং নওশেরায় অভিযান চালানো হয়। চারজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ হামলার পরিকল্পনাকারী ধরা পড়েছে। সে আফগানিস্তানের নাগরিক।’
সংবাদ সম্মেলনে মূল পরিকল্পনাকারীর সঙ্গে আইএসের সম্পৃক্ততা কথা জানিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনীগুলোকে নিয়ে আরেক সতর্কবার্তা দেন নাকভি। জানান, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান, আফগান তালিবান কিংবা খারজি বিচ্ছিন্নতাবাদী, গোষ্ঠীগুলোর নাম যাই হোক না কেন, এ মুহূর্তে ২১টি সন্ত্রাসী সংগঠন একত্রে পাকিস্তান ভূখণ্ডে হামলার ছক কষছে। আফগানিস্তান থেকেই এটি পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
বিশ্লেষকরাও বলছেন, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে পরিকল্পিত সহিংস হামলা জন্ম দিচ্ছে নতুন আশঙ্কার। গেল তিন মাসে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভিন্ন দুটি আত্মঘাতী হামলা ইঙ্গিত করে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বারবার ধাক্কা খাচ্ছে বর্তমান প্রশাসন। বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেহবাজ শরীফ প্রশাসনের এ দুর্বলতা বারবার সামনে আসছে এবং তা সীমান্তের অপর প্রান্ত থেকে হামলার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ উদ্বেগ হঠাৎ করে জন্ম নেয়া কোনো ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নয়। গেল তিন বছরে যত সহিংস ঘটনা ঘটেছে তা পর্যালোচনা করেছে পাক ইনস্টিটিউট অব পিস স্টাডিজ। তাদের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে ২০২৫ সালে দেশজুড়ে ৬৯৯টি হামলা হয়েছে। যা গেল বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করে দেশের অভ্যন্তরে যে কোনো সময়ে হামলার সক্ষমতা আছে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের।
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের প্রত্যাবর্তন ও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে কাবুল-ইসলামাবাদ সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। ইসলামাবাদ বারবার বলে আসছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে নিজ ভূখণ্ডে আশ্রয় দিয়ে পাকিস্তানে হামলার সুযোগ করে দিচ্ছে আফগানিস্তান। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভ্যন্তরীণ সহিংসতা ঠেকাতে না পারলে ক্রস বর্ডার বা সীমান্তের বাইরে থেকে হামলার আশঙ্কা আরও বাড়বে। এমনকি, সশস্ত্র সংঘাত বা দাঙ্গায় জড়িতে পড়তে পারে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো।





